ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারত থেকে সরছে বাংলাদেশের ম্যাচ? লঙ্কান দ্বীপেই কি তবে বাঘেদের গর্জন?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:৫৬, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত থেকে সরছে বাংলাদেশের ম্যাচ? লঙ্কান দ্বীপেই কি তবে বাঘেদের গর্জন?

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি বর্তমানে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন বাকি মাত্র ৩২ দিন, তখন টুর্নামেন্টের মূল সূচি নতুন করে সাজানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হয়েছে জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসিকে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য উদ্ধৃত করে এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমসসহ অন্যান্য মিডিয়া এমনটাই জানিয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভারত সফরে সরাসরি অস্বীকৃতির ফলে এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন:

ঘটনার মূলে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্কের নজিরবিহীন অবনতি। এই উত্তাপের বারুদে আগুন দিয়েছে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিতর্কিতভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনা। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির রেকর্ড মূল্যে মোস্তাফিজকে কেনার পরও ‘রাজনৈতিক চাপে’ তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট ভক্তরা সহজভাবে নিতে পারেনি। পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মতো ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কও এখন খাদের কিনারায়।

বিসিবি কেবল আপত্তিই জানায়নি, বরং রবিবার আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে সুনির্দিষ্ট সমাধানও দিয়েছে। বিসিবির দাবি- জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে হবে।

পূর্বনির্ধারিত সূচিতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো:
৭ ফেব্রুয়ারি: প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ভেন্যু: কলকাতা)
৯ ফেব্রুয়ারি: প্রতিপক্ষ ইতালি (ভেন্যু: কলকাতা)
১৪ ফেব্রুয়ারি: প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড (ভেন্যু: কলকাতা)
১৭ ফেব্রুয়ারি: প্রতিপক্ষ নেপাল (ভেন্যু: মুম্বাই)।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নির্ধারিত এই ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে হলে আইসিসিকে বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। হোটেল বুকিং, ব্রডকাস্টিং ইউনিট স্থানান্তর এবং টিকিট রিফান্ড বা নতুন ভেন্যুর টিকিট বিক্রির মতো জটিল কাজগুলো মাত্র এক মাসের মধ্যে শেষ করা প্রায় অসম্ভব এক মিশন।

আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি একইসাথে বিসিসিআই-এরও শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, তার জন্য এটি এক বড় ধরণের ‘ইমেজ’ সংকট। যদি ভারত সরকার বা বোর্ড বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে ভেন্যু স্থানান্তর করে, তবে তা ভারতের ‘নিরাপদ আয়োজক’ ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। 

অন্যদিকে, দাবি না মানলে ২০ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করতে পারে, যা টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক ও দর্শক সফলতাকে বড় ধরণের ধাক্কা দেবে।

মাঠের বাইরের এই লড়ায়ের মধ্যেই বিসিবি তাদের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে বার্তা দিয়েছে- দল খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে তা ভারতের মাটিতে নয়।

উল্লেখ্য, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার আটটি ভেন্যুতে এই আসর বসার কথা।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়