ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পাখির সঙ্গে সখ্য

শামীম আলী চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৫ ১২:৪২:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ১:৪২:৩৪ পিএম
Walton AC 10% Discount

শামীম আলী চৌধুরী : পাখি নিয়ে আমার আগ্রহ ছেলেবেলা থেকেই। ক্যামেরা নিয়ে এ কারণে ঘুরে বেড়িয়েছি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। ফ্রেমে বন্দী করতে চেয়েছি নাম জানা-অজানা পাখির জীবনচক্র। তেমনই কয়েকটি দেশীয় পাখির স্বল্প পরিচিতি তুলে ধরলাম। এগুলো বাংলাদেশের আবাসিক পাখি হিসেবে পরিচিত।

সিঁদুরে সোহেলী (Scarler Minivet): এই পাখিটি আমাদের দেশীয় ও আবাসিক পাখি। আকারে দোয়েলের চেয়ে বড়; ২২-২৩ সে.মি.। পুরুষের দেহ প্রধানত সিঁদুরের মতো লাল টকটকে। স্ত্রী পাখির দেহ হলুদ বর্ণের। পুরুষের মাথা ও পিঠ কালো। পেট, কোমর, ডানা ও লেজ গাঢ় লাল রঙের। এরা মূলত সবুজ বনের রঙিন ফুল ও ফল খেয়ে থাকে। প্রজননকালে স্ত্রী পাখিকে আকর্ষণ করার জন্য পুনঃপুনঃ ডাকে টিউয়ি, টিউয়ি শব্দে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটের সবুজ বনে এই পাখি দেখা যায়।
 


পাতি-ময়না বা পাহাড়ি ময়না (Hill Moyna): এই পাখি আমাদের দেশীয় ও আবাসিক পাহাড়ি অঞ্চলের পাখি। আকারে ভাত-শালিকের চেয়ে বড়; ২৫-৩০ সে.মি.। দেহ উজ্জ্বল কালো। ডানায় সাদা পট্টি আছে। গালে ও ঘাড়ে হলুদ চামড়ার ঝুলন্ত পট্টি। চোখ কালচে বাদামী। পা ও আঙুল হলুদ। পাহাড়ি গাছের ফল খেয়ে থাকে। গাছের গর্তে বাসা করে। এপ্রিল-জুন মাস প্রজনন কাল। গলার আওয়াজ বহু দূর থেকে পাওয়া যায়। টি-অঙ..টি-অঙ শব্দ করে ডাকে। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ বনে দেখা পাওয়া যায়।
 


বাংলা-নীলকণ্ঠ বা নীলকান্ত (Indian Roller): এটাও আমাদের আবাসিক পাখি। আয়তন ৩০-৪০ সে.মি. হয়। আকারে শালিকের চেয়ে বড়। কাকের চেয়ে কিছুটা ছোট। দেহের বর্ণ সাতটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত। ডানা মেলে যখন পাখিটি উড়ে তখন নয়ন মেলে দেখতে ইচ্ছে করে। দেহ সম্পূর্ণ নীল, মাথার ওপর, ডানা, তলপেট ও লেজ নীল। মুখ, গলা, ঘাড়, কাঁধ ও বুক লালচে বাদামী। গলায় সরু সরু খয়েরী ও নীল দাগ। তীক্ষ্ম সুরে ডাকে ক্রাক ক্রাক শব্দে। গ্রামে গাছর ডালে ও শহরে বিদ্যুতিক খুঁটিতে বা তারে থাকে। পোকা-মাকড়, ব্যাঙ, কেঁচো এদের প্রধান খাদ্য। খাবারের জন্য মাটিতে নামে। সারা দেশেই এই পাখি পাওয়া যায়।


বাদামীমাথা-সুঁইচোরা (Chest-nut headed Bee eater): আমাদের দেশীয় পাখির মধ্যে যত প্রজাতির সুঁইচোরা আছে তার মধ্যে খয়রামাথা সুঁইচোরা দেখতে সবচেয়ে সুন্দর। আকারে শালিকের চেয়ে ছোট। আয়তন ১৮-২০ সি.মি. হয়। দেহ সবুজ। থুতনি ও গলা হলুদ। চঞ্চু ইস্পাত বর্ণের। গলা ও বুক বরাবর লালচে ও কালো লাইন টনা। বাকি দেহ সবুজ। কোমল সুরে ডাকে। মৌমাছি, পোকামাকড় এরা উড়ন্ত অবস্থায় শিকার করে খায়। সারা দেশে পাওয়া যায়। বিশেষ করে সিলেট, ফরিদপুর ও চিরসবুজ বনে বেশি দেখা যায়।
 


সিঁদুরে মৌটুসী (Crimson-sunbird): আমাদের দেশীয় আবাসিক পাখি। আকরে চড়ুইয়ের চেয়ে ছোট। আয়তন ১১ সে.মি.। পুরুষের দেহ লাল, স্ত্রীর দেহ হলদে সবুজ। পুরুষের গাল, গলা, বুক ও পিঠ উজ্জ্বল লাল বর্ণের। চঞ্চু গোলাপী। পেট হলুদ। ডানা জলপাই রঙের। দীর্ঘ নীল লেজ। সিপ, সিপ চিট, ইটসিট করে ডাকে। চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের সবুজ বনে পাওয়া যায়। গত বছর আমি ঢাকার রমনা পার্কেও পেয়েছিলাম। সারা দেশে মোটামুটি দেখতে পাওয়া যায়। ফুলের মধু খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। অন্যান্য পাখির মত এরা পানি পান করে না। মে-জুলাই মাস পর্যন্ত এদের প্রজনন সময়। নিজেরা বাসা বানায় ও ডিম পাড়ে।
 


সবুজ তাউরা বা হাঁড়িচাচা (Common Green Magpie): এটি আমাদের দেশীয় পাখি। অনেকেই অনেক নামে ডাকেন। পাতি সবুজ তাউরা, রক্তলাল চোখ ও প্রবাল-লাল পায়ের মাঝারি আকারের সবুজ বর্ণের পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩৮ সে.মি., ডানা ১৫ সে.মি.,  ঠোঁট ৩.৮ সে.মি., পা ৪.৫ সে.মি. ও লেজ ২০ সে.মি.। ওজন ১৩০ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির ডানার বর্ণ তামাটে-মেরুন। পিঠের বর্ণ পাতা-সবুজ। দেহতল হালকা সবুজ। পরিমিত আকারের একটি সবুজ ঝুঁটি মাথার পেছন পর্যন্ত চলে গিয়েছে। ঠোঁট থেকে চোখ হয়ে একটি কালো ডোরা মাথার পেছন পর্যন্ত চলে গিয়েছে। ডোরাটি মাথার ঝুঁটিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ডানার প্রান্ত ও মধ্যপালক স্পষ্ট তামাটে। লেজ লম্বা ও সবুজ। ডানার গোড়ার পালক ও লেজের পালকের আগা সাদাটে। চোখ রক্তলাল, চোখের বেড় মেটে-লাল। ঠোঁট বলিষ্ঠ; ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা ও নখ প্রবাল-লাল। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ঝুঁটি অপেক্ষাকৃত খাটো। ঝুঁটি ও মাথা কালচে-বাদামি। ঠোঁট ও পা অনুজ্জ্বল। দেহতল তুলনামূলক ফিকে ও লেজতল সাদা। সাতছড়ি লাউয়াছড়া ও বান্দরবানের সবুজ বনে পাওয়া যায়।
 


নেউ-পিপি (Pheasant-tailed jacana): নেউপিপি আমাদের দেশীয় পাখি। আকারে কবুতরের সমান ৩১ সে.মি.। বাদামী পিঠ ছাড়া সারা দেহ সাদা। গলায় সোনালী রং। প্রজননের সময় পুরুষের লেজ লম্বা হয়। এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত এদের বংশ বিস্তারের সময়। বিলের ধারে বেশী থাকে। জলজ খাবার এদের প্রিয় খাবার। সারা দেশেই দেখা যায় কম-বেশী। তবে হাওর অঞ্চলে প্রচুর দেখা মিলে।
 


সবুজ-শ্যামাঘুঘু বা বাঁশপাতা ঘুঘু (Grey-capped Emerald Dove): এই দেশীয় ঘুঘুগুলো আকারে কবুতরের মতো প্রায় ২৭ সে.মি. হয়। পিঠ ও ডানা জ্বলজ্বলে পান্না সবুজ।ঘাড় কাঁধ গলা বুক ও পিঠ লালচে। লেজ ও ডানার প্রান্ত কালো।পুরুষের কপাল ধূসর ও সাদা পট্টি আছে। সারা দেশেই পাওয়া যায়। এরা বাঁশ বাগানে বেশি থাকতে পছন্দ করে। সাধারণ কবুতরের মতো খাবার খায়। খুব দ্রুত গতিতে উড়ে।
 


লাল-মামুনিয়া (Red-Avadavat): লাল মামুনিয়া আমাদের দেশে ছনের ঝোঁপ ঝাড়ে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে ৫ প্রজাতির মুনিয়া দেখা যায়। তার মধ্যে লাল-মামুনিয়া সবচেয়ে সুন্দর। পুরুষ লাল-মামুনিয়ার পিঠ ও বুক সম্পূর্ণ টকটকে লাল বর্ণের হয়। ডানা বাদামী রঙের। বুকে সাদা সাদা ফোটার মতো হয়। যার জন্য পাখির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়। এরা ছনের ভিতর বাসা বানায়। ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়। ঘাসের বীজ, পাকা ধান ও অন্যান্য বীজ এদের প্রধান খাদ্য।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মে ২০১৯/তারা

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge