ঢাকা     শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৯ ||  ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

সড়কে বাঁশ দিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ২৩ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:৫০, ২৩ নভেম্বর ২০২১

আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করার পর জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ তিনি দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত মেয়র। এদিকে, তার মেয়র পদ নড়বড়ে হওয়ায় সড়ক প্রশস্তকরণে জমি দানকারীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা ক্ষতিপূরণের জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে সড়ক দখল করে মেয়রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। 

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বনমালা সড়কটিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবার। 

জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে গত জুন মাস গাজীপুরের সঙ্গে টঙ্গীর যোগাযোগ উন্নত করতে বনমালা সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তবে সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে ভিটেমাটি হারান অনেক পরিবার। কিন্তু পায়নি ক্ষতিপূরণ। 

বনমালা এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা জানান, তার ৩ কাঠা জমি সড়ক প্রশস্ত করার সময় নিয়ে নেয় সিটি করপোরেশন। এসময় তারা জমির কাগজপত্রও নেয়।

তিনি বলেন, ‘আমার এই জমির মূল্য ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু মেয়র দিয়েছেন মাত্র ১ লাখ টাকা। এখন মেয়র যদি পদ হারান তবে কে দেবে আমাদের ক্ষতিপূরণ। এজন্য আমরা নিজেদের জয়গা দখল করেছি।’

জাহানারা বেগম সড়ক নির্মাণে ৫০ ফুট জায়গা ছেড়ে দেন। এতে প্রায় ১০টি ঘর তার ভাঙা পরে। এক সময়ের বাড়িওয়ালা এখন অন্যের বাসায় ভাড়া থাকছেন। প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পেলে অন্য কোথায় সন্তানদের নিয়ে থাকতে চান তিনি। 

হোসনেয়ারা বেগমের স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সামান্য বেতনে চাকরি করেন। স্বামীর সঞ্চিত টাকা দিয়ে প্রায় দেড় কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেন। স্বামীর উপার্জন আর রুম ভাড়া দিয়ে সংসার ভালোই চলছিলো। বর্তমানে আর সেই অবস্থা নেই বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘ছেলেরা চায়ের দোকান দিয়েছে। আমরা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেলে ফকির হয়ে যাবো।’ 

মাজেদা বেগম নামে একজন বলেন, ‘আমরা তার আশায় বসে ছিলাম। মেয়র বলেছিলেন, আমাদের জমি কিনে দেবেন। কিন্তু সে যদি মেয়র না থাকে তাহলে আমাদের কী হবে? এজন্য আমাদের জায়গাতে বেড়া দিয়েছি। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে একযোগে চলছিলো সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। এতে ৮ হাজার বিঘা জমি, ও ৩২ হাজার বাড়িঘর, দোকানপাট অধিগ্রহণ করে ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাননি সংশ্লিষ্টরা। 

তবে এ বিষয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন: ক্ষমা চেয়ে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনার আকুতি জাহাঙ্গীরের

 ভুল হতে পারে: মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীরের মেয়র পদও নড়বড়ে

আ. লীগ থেকে মেয়র জাহাঙ্গীর বহিষ্কার

‘জাহাঙ্গীরের বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত’

রেজাউল করিম/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়