ঢাকা     শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯ ||  ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

সিঁড়ির নিচে ও রাস্তায় বসে চিকিৎসা, স্বজনদের হা-হুতাশ

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৯, ১৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৪০, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
সিঁড়ির নিচে ও রাস্তায় বসে চিকিৎসা, স্বজনদের হা-হুতাশ

কেউ সিঁড়ির নিচে, কেউ বাড়ান্দায়। কেউ অসুস্থ্য শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মেঝেতে বসে আছেন স‌্যালাইন হাতে। জায়গা না পেয়ে আবার অনেকেই শিশুর হাতের স্যালাইন নিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরের রাস্তায় বসে আছেন। এ অবস্থা গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের। 

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকতেই নজরে পড়বে লাশ কাটা ঘর। পাশেই ডায়রিয়া ওয়ার্ড। এতে মাত্র ১০টি বিছানা। চাহিদার তুলনায় ১০ ভাগের এক ভাগ। ফলে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ১০ জনের ভাগ্যে বিছানা জুটলেও অধিকাংশরই কপালে জোটে না কোনো বিছানা। পড়ে থাকতে হয় মেঝেতে বা সিঁড়ির নিচে।  

সিপিবি নেতা মিহির ঘোষ বলেন, ‘চিকিৎসা ব্যবস্থা বেহাল অবস্থা। হাতে স্যালাইন লাগিয়ে শিশুর মা অথবা স্বজনদের কোলে বসে দিনরাত কাটাতে হয় হাসপাতালের মেঝেতে। চারপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। দুর্গন্ধে আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন। তারপরও স্বজনদের জীবন বাঁচাতে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকতে হয় সিস্টার, নার্স আর ডাক্তারদের অপেক্ষায়। পরিচ্ছন্নকর্মীদের কারবারই আলাদা। রোগীদের সাথে আসা স্বজনদের বিপদে থাকতে হয়। তাদের পায়খানা প্রশ্রাব খানায় যেতে হয় দম বন্ধ করে। পা দানিসহ চারপাশের চিত্র ভয়াবহ। এমন অবস্থায় নাক মুখ চেপে ধরে থাকেন দাঁড়িয়ে, বসে অথবা পায়ে হেঁটে হেঁটে। অসহায় স্বজনরা হাসপাতালের বাড়ান্দায় তাদের শিশুদের নিয়ে ঠাঁই নেন তবুও।’ 

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুপুত্রর চিকিৎসা নিতে এসেছেন দাড়িয়াপুর থেকে মোমেনা বেগম। এসে দেখেন কেউ নেই। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এক নারী ঘুমিয়ে আছেন বিছানায়। ডেকে তুলতেই তিনি ক্ষেপে যান। তারপর হাতে কেনুলা লাগিয়ে আর স্যালাইন দিয়ে বলেন, যান। কোথায় যাবেন এই গভীর রাতে, এই ভেবে মোমেনা তার স্বামীকে নিয়ে বাড়ান্দায় বসে রাত কাটিয়ে দেন। সকালে শিশুর কিছুটা উন্নতি হয়। সকালে দেখা গেলো ওই শিশুকে কোলে নিয়ে সামনের রাস্তায় বসেছেন একটু রোদ পাবার আশায়। 

মোমেনা বেগম বলেন, ‘ভাই এই ক’দিন কিভাবে ছিলাম তা বর্ণনা করতে পারবো না। মানুষের যে ব্যবহার এরকম হতে পারে, তা বুঝে গেলাম। ওষুধ সব বাহির থেকে কিনে হাসপাতালে পেলাম ফ্রি স্যালাইন। পায়খানায় যেতে পারিনি। রোদ নাই, কনকনে ঠাণ্ডায় একটার পর একটা কাপড় নিয়ে আসতে হয়েছে।’

নার্স আরিফা খাতুন জানান, অনুমতি ছাড়া তারা কথা বলতে পারবেন না। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানা কম, তাই মেঝে, সিঁড়ির নিচে ঠাঁই করে দিতে হয় রোগীদের। 

একজন রোগীর স্বজন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভাই আমার ছেলের জীবন যায় যায় অবস্থা। কিন্তু ওনাদের ডেকে পাওয়া যায় না। একটা স্যালাইন লাগিয়ে দিয়ে বলে গেছে বসে থাকেন। নার্সরা সারাক্ষণ রোগী সামাল দিতে গিয়ে সেবার উল্টোটা হয়।’ রোগী আসেন ৪০/৫০ জন কিন্তু জনবল কম থাকায় নার্সরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাক্তার তাহেরা আকতার মনি বলেন, ‘আমাদের জনবল কম, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানা মাত্র ১০টি। ফলে আগত রোগীদের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না।’ 

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়