ঢাকা     সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

বগুড়ায় হরতা‌লে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, শিশু আহত 

বগুড়া প্রতি‌নি‌ধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ২৯ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ১৬:০২, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
বগুড়ায় হরতা‌লে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, শিশু আহত 

বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বগুড়ার ফতেহ আলী বাজার এলাকার গালাপট্টি সড়কে জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভোর থেকেই মহাসড়কে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। শহ‌রের ভেত‌রে অ‌ধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়ে‌ছে। 

সকালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোকুল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ‘পুলিশের গুলিতে একটি শিশু আহত হয়েছে’ এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে শত শত নারী-পুরুষ বেরিয়ে আসে। তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এলাকাবাসীর দাবি পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই গুলি ছুড়েছে। শিশুটিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিক রিগ্যানের নেতৃত্বে একটি মিছিল সাতমাথার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের বাধায় মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে। এরপর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। 

এ দিকে সকাল থেকেই হরতালের বিপক্ষে শহরের টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা শহরের নবাববাড়ী এলায় বিএনপির কার্যালয়ের দিকে এগুতে থাকলে দুই দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সকাল পৌনে দশটার দিকে আওয়ামী লীগের একটি দল গালাপট্টি সড়ক হয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে আগানোর চেষ্টা করে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ একাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। আমাদের প্রোগ্রাম চলাকালীন ছাত্রলীগ, যুবলীগের গুন্ডারা পুলিশকে সাথে নিয়ে হামলা চালায়। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে আমাদের ৬-৭ জন কর্মী আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে বগুড়ার প্রায় দুইশ নেতাকর্মীকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে শহরে কয়েক দফায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে সব ঠিক আছে। আশা করছি কোনো অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটবে না।  

বগুড়ার অতিরক্তি পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। 

এ সময় তিনি গোকুলে গুলিতে শিশু আহতের খবর জানেন না বলেও জানান। 

এনাম/তারা 

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়