ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১০ ১৪৩১

ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু

মামুন শেখের মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছালে পরিবারে শুরু হয় আহাজারি

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় মাদারীপুরের দুই যুবক মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যুবকদের মৃত্যুর খবর এলকায় এসে পৌঁছালে মাতম শুরু হয় পরিবারগুলোতে। আদরের সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা মা-বাবা। পুলিশ বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার সরেজমিনে স্বজনদের বাড়িতে গেলে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২০) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগীসহ (২৫) কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। গত বুধবার লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির দিকে রওনা দেয় তারা। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকায় ৫২জন অভিবাসনপ্রত্যাসী ছিলেন। ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে মামুন ও সজলসহ মারা যায় ১২ জন। খবর পেয়ে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। এছাড়া, এখনো নিখোঁজ পাশ্ববর্তী গোহালা ইউনিয়নের পান্নু শেখের ছেলে আপন শেখ।

নিহত মামুন শেখের বড় ভাই সজিব শেখ ও নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের বাদশা কাজীর ছেলে মোশারফ কাজী প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয় ১৩-১৫ লাখ টাকা নেয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠালে ঘটে দুর্ঘটনা। সরকারিভাবে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছে। তার ছেলে যুবরাজ গ্রাম থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য যুবকদের সংগ্রহ করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার আসাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা গ্রামের আলি আক্কাবরের ছেলে মো. সম্রাট (২৪) ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারি দিয়েছিলেন ইতালির পথে। মাস পাঁচেক আগে রাসেদ খান নামের এক দালালের সঙ্গে সম্রাটের চুক্তি হয় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার। দালাল সম্রাটের পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেয়। এরপর লিবিয়ায় নিয়ে একটি বন্দি শিবিরে আটকে রাখে সম্রাটকে। চালানো হয় নির্যাতন। ঠিকমত খাবারও দেওয়া হতো না। এরপর গত বুধবার খবর আসে সম্রাট মারা গেছেন। 

মারা যাওয়া সম্রাটের ভাই আজগর বলেন, কতগুলো টাকা খরচ করে ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমার ভাই নেই। সে মারা গেছে। এখন টাকাও গেলো ভাইও গেলো। দালাল বলছে, লাশ এনে দেবে। 

জানা গেছে, দালাল রাসেদ খান ও তার ভাই টুলু মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সহজ সরল মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে। তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে একাধিক মামলা রয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাহউদ্দিন বলেন, মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। মামলা হলে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। আসামিরা অনেক সময় মামলার বাদীদের সঙ্গে মিমাংসা করে ছাড়া পেয়ে যায়।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়