ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পাঠ করলো ৭০০ শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৭ মার্চ ২০২৪  
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পাঠ করলো ৭০০ শিক্ষার্থী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ব্যতিক্রমী বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পাঠ, ডিসপ্লে ও ভাষণের ১১০৮টি শব্দমালা দিয়ে পতাকা উত্তোলন ও শব্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে।

৭০০ শিশু শিক্ষার্থীদের দ্বারা বানানো হয়েছিল ৭ মার্চ ছায়া লেখা। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেমিক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায় বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ।

এ দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মাঠে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শব্দমালা। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৭০০ শিক্ষার্থীর কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বনিত হয়, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।

পরে সেখানে ৭ মার্চের ১৯ মিনিটের ১ হাজার ১০৮টি শব্দের ঐতিহাসিক ভাষণকে স্মরণ করে ১ হাজার ১০৮জন শিক্ষার্থী একসাথে জাতীয় পতাকা হাতে নাড়িয়ে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা করে। এরপর শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা নানা রঙের বেলুনের সাথে বেলুন উড়িয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আসনের উন্নয়ন প্রতিনিধি শহীদ উল্লা খন্দকার। এসব বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিয়ে একটি রঙিন আকাশ উপহার দেয়া হয়।

পরে সেখান থেকে শব্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা ও সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুলসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ৭ মার্চের ১৯ মিনিটের ১১০৮টি শব্দের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির অনন্ত প্রেরণার উৎস। পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে থেকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের সামনে কঠিন সংকটময় মুহূর্তে ভারসাম্যপূর্ণ অথচ আবেগময় কন্ঠে একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে স্বাধীনতার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর হৃদয় উৎসারিত ১১০৮টি শব্দমালার সুনিপুণ বুনন বাঙালি জাতিকে দিয়েছে আরাধ্য স্বাধীনতা, মাতৃভূমি, অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত করতে ৭ মার্চের ভাষণ তাদেরকে আত্মস্থ করানো হয়। এটি ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে তাদের পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

বাদল/ফয়সাল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়