ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ফেলানী ঝুলে ছিল কাঁটাতারে, সেই বিচার আজো ঝুলছে ভারতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৩৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৩:৪৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ফেলানী ঝুলে ছিল কাঁটাতারে, সেই বিচার আজো ঝুলছে ভারতে

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফ গুলি করলে এভাবেই ঝুলে থাকে ফেলানী খাতুন।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে বুধবার। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় হতাশ তার বাবা-মা ও স্থানীয়রা। 

ফেলানী হত্যায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করেন সীমান্তবাসীসহ আইন বিশেষজ্ঞরা।

১৫ বছর আগে বিএসএফের গুলিতে কাঁটাতারের ওপর হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। সেই থেকে মেয়ে হারানোর স্মৃতি ও তার কবরকে অবলম্বন করে বেঁচে আছেন মা-বাবা। ন্যায় বিচারের জন্য আজো ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। 

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দেওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘসময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের ছবি দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। 

সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে দুই দফায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। 

২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চে (মাসুম) মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন, যার ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানির দিন পেছায়। এখনো আদালতেই ঝুলে আছে বিচারিক কাজ।

ফেলানী মা জাহানারা বেগম বলেন, প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি এলেই ফেলানীর জন্য তার বুক ফেটে কান্না আসে। ন্যায় বিচারের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ফাঁসি হলে আত্মা শান্তি পাবে। 

এজন্য ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকার কথাও জানান জাহানারা বেগম।

ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম জানান, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেল কিন্তু এখনো ন্যায় বিচার পেলাম না। ভারতের আদালতে সাক্ষ্য দিতে কয়েকবার গিয়েছি। তাদের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছি।বিচার পাওয়ার আশা করি এখনো।

ফেলানীর প্রতিবেশী আলামিন জানান, দেশ-বিদেশে আলোচিত ফেলানী হত্যার ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশা করছি। এ হত্যাকাণ্ডে ন্যায় বিচার হলে সীমান্তহত্যা কমে যাবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশনটির শুনানি এখনো হয়নি। অভিযুক্তকে সাঁজার মাধ্যমে পিটিশনটি নিস্পত্তি করা হলে দুই দেশের দীর্ঘসীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে যাবে বলে আইনজীবীরা মনে করেন।

কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম জানান, “ভারতের আদালতে ফেলানীর হত্যাকারী অমিয় ঘোষের বিচার করতে পারলে বিএসএফ সদস্যরা আর এমন হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ করতে সাহস পাবেন না। ফলে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে।”

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিল ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটনে কাজের সন্ধানে সপরিবারে ভারতে চলে যান তারা। পরে ফেলানীকে বিয়ে দিতে দাদালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় হত্যার শিকার হয় সে।

ঢাকা/বাদশা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়