ঈদযাত্রা: যাত্রীর ভিড় নেই গাবতলীতে
ছবি: রাইজিংবিডি
ঢাকার গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ঈদযাত্রা ঘিরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। সকাল থেকে টার্মিনালে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম। যানজট নেই, ছুটির কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি সুবিধা রয়েছে, ফলে যাত্রীরা অপেক্ষার চাপ তুলনামূলকভাবে কম অনুভব করছেন। তবুও কিছু পরিবহন কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
টার্মিনালে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাস নির্ধারিত সময় পার হলেও খালি আসন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে টিকিট নিতে চাইলে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীগামী যাত্রী মো. রাশেদ বলেন, “বাসে সিট খালি, কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে বলছে বেশি টাকা দিতে হবে। না দিলে সিট নেই—এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
বগুড়াগামী সাবিনা আক্তার জানান, “ঈদে তো যেতেই হবে। তেলের অজুহাতে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা লম্বা ছুটি পেয়েছি, যানজট নেই, যাত্রা সহজ, তবুও এই অতিরিক্ত ভাড়া মানতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহনকর্মী জানালেন, জ্বালানি সংকট এবং গাড়ি কম চলাচলের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, সব পরিবহন একভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে না।
এদিকে, টার্মিনালে থাকা কিছু লোকাল পরিবহন বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও কাউন্টারভিত্তিক পরিবহনগুলো সরকারি নিয়ম মেনে ভাড়া নিচ্ছে।
যাত্রীসংখ্যা কম, যানজট নেই এবং লম্বা ছুটির সুবিধা থাকায় যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে কম ভোগান্তিতে থাকলেও, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের অভাব তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সরকারি তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কল্যাণপুরে পরিবার নিয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা মনির হোসেন জানালেন, টিকিট পাওয়া এবং বাসে ওঠা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়েছে। তবুও বাড়ি ফেরার আনন্দ আলাদা। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, “তারা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী চার্জ নিচ্ছেন। তবে ফিরতি পথে বাস খালি আসার কারণে মালিকপক্ষ কিছুটা সমন্বয় করছে।”
টার্মিনালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি দেখা যাচ্ছে। পুলিশ ও র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ভিজিল্যান্স টিমও কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঝক্কি-ঝামেলা থাকলেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আনন্দদায়ক। সবার লক্ষ্য—নির্ধারিত সময়ে পরিবারের কাছে পৌঁছানো। এতে ঈদ উদযাপনের আনন্দ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলন আরো সুন্দর হয়ে উঠছে।
ঢাকা/আলী/সাইফ