ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১৭ মার্চ ২০২৬  
ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহন বাড়লেও যানজট নেই।

ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। নাড়ির টানে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ এ সড়কে বাড়ি ফিরছে। 

বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-যমুনা সেতু পশ্চিমের কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় যানবাহনের চাপ থাকলেও চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের অবিরাম চলাচলেও কোথাও স্থবিরতা তৈরি হয়নি। এতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌছাচ্ছেন। 

আরো পড়ুন:

বুধবার থেকে ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) বা শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।  

যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের যানজট বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট টিম প্রস্তুত রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নের পাশাপাশি যানজট এড়াতে টহল জোরদার ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

গাজীপুর থেকে সিরাজগঞ্জগামী সুলতান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘‘প্রতিবার ঈদের সময় এই রাস্তায় অনেক কষ্ট করতে হয়। এবার কোনো যানজট নেই। খুব স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দটাই আলাদা। এবার যাত্রা সহজ হওয়ায় আনন্দটা আরো বেড়ে গেছে।’’ 

ঢাকা থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করা শফিক শেখ বলেন, ‘‘দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরতে পারার আনন্দই আলাদা। কিছুটা ভিড় থাকলেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দে সব কষ্ট ভুলে যাচ্ছি। ভেবেছিলাম পথে অনেক যানজটে পড়তে হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত যাত্রা পথে ভালোই চলছে।’’ 

চালকরাও উত্তরবঙ্গে চলাচলের পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রংপুরগ্রামী বাস চালক সাগর শেখ বলেন, ‘‘রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেক রয়েছে কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। পুলিশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।’’ 

ট্রাক চালকেরা বলছেন, ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ বাড়লেও সবাই সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে। তারা যাত্রীদের ধৈর্য ধরে যাতায়াত করার আহ্বান জানান।

হাটিকুমরুলর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘‘এবার লম্বা ছুটি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছি। কোথাও যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। টহল জোরদার করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সচেতন করা হচ্ছে।’’ 

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সেতু দিয়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়ক হয়ে উঠেছে স্বস্তির পথ। ঘরমুখো মানুষের স্রোতের মধ্যেও যানজট নেই। ফলে স্বপ্নের মতোই কাটছে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। এ সব জেলার যানবাহন রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে হলে এই সেতু পার হয়ে চলাচল করতে হয়। বিকল্প কোনো সড়কপথ না থাকায় প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে এই সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।

ঢাকা/রাসেল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়