ঢাকা     সোমবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গণভোট দলের নয়, দেশের স্বার্থে: আসিফ নজরুল

বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬  
গণভোট দলের নয়, দেশের স্বার্থে: আসিফ নজরুল

সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, হ্যাঁ ভোট কোনো দলের ম্যান্ডেট না, এটা বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট। বাংলাদেশের মানুষ একটা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়। গণভোট কোনো দলের স্বার্থে না, দেশের স্বার্থে গণভোট। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। একটি হলো—প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিচ্ছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে—প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একসাথে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় বলেছিলাম, আমাদের তিনটি প্রধান কাজ—সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন। সংস্কার মানে কী? সংস্কার হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম দেশের মধ্যে ছিল, যে সিস্টেমের মাধ্যমে আয়নাঘর সৃষ্টি করা যেত, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করা যেত, গুম করা যেত, মিথ্যা হয়রানিমূলক গায়েবি মামলা করা যেত, দিনের পর দিন বিচার না করে জেলে আটকে রাখা যেত, জেলে থেকে মারা যেত। বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল চিকিৎসা করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে যেন না ঘটে, বাংলাদেশে যেন দুর্নীতি না হয়। বালিশের দাম যেন ১২ হাজার টাকা না দেখায়। ১০টা পদ্মা সেতু যে টাকায় করা যায়, সেই টাকা দিয়ে যেন দুই-তিনটা পদ্মা সেতু না বানায়। যাতে দেশের টাকা বিদেশে পাচার না হয়। যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক লুট না হয়। যাতে ভারতের কাছে আমাদের নতজানু হয়ে থাকতে না হয়। এসব বিষয় নিশ্চিত করার জন্য আমাদের দেশের আইন নীতি এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। যেসব পরিবর্তন আমাদের সরকারের পক্ষে সম্ভব, আইন প্রণয়ন করে তার অনেক কিছু করেছি।

আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা জানেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস কমিশন তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধির অনেক সংস্কার হয়েছে। কিন্তু, আরো বড় বড় সংস্কারের জন্য সংবিধানের পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান পরিবর্তন করার মতো ক্ষমতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। কিন্তু, আমাদের যে ক্ষমতা ছিল, সেটা আমরা প্রয়োগ করে কোথায় কোথায় পরিবর্তন দরকার, বড় পরিবর্তন দরকার, সেটা সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি জুলাই সনদে। কেবল রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত পোষণ করেছে। সরকারও চায়, কিন্তু জনগণের তো মতামত নেওয়া হয়নি। জনগণের মতামত নেওয়ার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূল কথা হচ্ছে, আপনি যদি চান, এ দেশ থেকে বৈষম্য দূর হোক, নিপীড়ন দূর হোক, অবিচার দূর হোক, দুর্নীতি দূর হোক; তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যদি চান, শেখ হাসিনার আমলের মতোই বাংলাদেশে দুর্নীতি চলুক, বৈষম্য চলুক, সরকারি দল একচ্ছত্র সকল ক্ষমতা ভোগ করুক, যখন ইচ্ছে সংবিধান পরির্তন করুক, বড় বড় খুনিকে একটা সরকার ক্ষমতায় এসে মাফ করে দিক—এসমস্ত অন্যায় অবিচারের যদি আপনি পক্ষে থাকেন; তাহলে আপনি ‘না’ ভোট দেবেন।

গণভোটে কী কী থাকে, এর ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আমরা বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, এটা সরকার ঠিক করবে না, বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে ঠিক করবে। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন করবে। এটা সরকারি দল একা একা ঠিক করবে না, বিরোধী দলের সাথে কথা বলে ঠিক করবে। আমরা বলেছি, আমাদের যে সংসদীয় কমিটি হয়, আমাদের যে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার হয়— সব সরকারি দল থেকে নেওয়া যাবে না। ডেপুটি স্পিকার পদটিতে বিরোধী দল থেকে নিতে হবে। সংসদে যে কমিটি আছে, সেখানে ১০টি সরকারি দল নেবে, কিন্তু ২টি বিরোধী দল থেকে নিতে হবে। আমরা বলেছি, সংসদে আমাদের যে মা-বোন আছে, তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। একজন মানুষ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। আমরা এই ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছি। এখানে মূল যে মেসেজ, সেটা হলো—বৈষম্য যেন দূর হয়। অনিয়ম যেন দূর হয়। দুর্নীতি যেন দূর হয়। একচ্ছত্র ক্ষমতা যেন একজন ব্যক্তির হাতে না থাকে। একচ্ছত্র ক্ষমতা, ১৮ কোটি জনগণের ক্ষমতা যখন একজনের কাছে থাকে, তখন কী হয়, তা ফ্যাসিস্টের আমলে আপনারা দেখেছেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই আমরা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল না। এই সরকারের মেয়াদ আছে আর ১ মাস। এর পর আমরা আর কোনো ক্ষমতা ভোগ করব না। আমাদের কোনো ইচ্ছে নাই। আমরা চাই, বাংলাদেশে যেন কোনো ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা ফিরে না আসে।

ঢাকা/এনাম/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়