ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২ || ২৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জামিনেও উচ্ছ্বাস নেই স্ত্রী-সন্তানহারা সাদ্দামের পরিবারে

 বাগেরহাট প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:৫৪, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
জামিনেও উচ্ছ্বাস নেই স্ত্রী-সন্তানহারা সাদ্দামের পরিবারে

জুয়েল হাসান সাদ্দাম

কারাগারে থাকতে স্ত্রী-সন্তানকে হারানো নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ খবরেও উচ্ছ্বাস নেই তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে। তারা বলছেন, স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে? 

সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেছেন, “আগেও জামিন চাইছি। আগে কয়েকবার জামিন হয়েছে, কিন্তু জেল থেকে বের হতে পারেনি। এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর। তাহলে এই জামিন দিয়ে কী হবে?”

আরো পড়ুন:

সাদ্দামের শ্বশুর জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, “প্যারোলে জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেই জামিন না দেওয়া অমানবিক কাজ হয়েছে। সেই বিচার চাই রাষ্ট্রের কাছে।”

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, “প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।”

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, “এখন জামিন দিয়ে কী হবে? এ দেশে সব নাটকীয়তা।”

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিনের আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি সাঈদ আহমেদ রাজা সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন।

বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সাদ্দাম। তখন থেকেই তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।

এরইমধ্যে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফ্রিজিং গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজা হয়। পরে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির পাশের কবরস্থানে সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। 

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরেও জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

ঢাকা/বাদশা/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়