ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষ হয়নি, ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গাতে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া ও যমুনা সেতুতে ধারণক্ষমতার অধিক যানবাহনের চাপসহ নানা কারণে আসন্ন ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে যাত্রীদের।
মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসড়ক ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। এ মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এ অংশে নির্বিঘ্নেই যাতায়াত করতে পারছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার মানুষ। কিন্তু, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকারাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। তাই, এবারও যানজটের আশঙ্কা করছেন যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
তারা বলছেন, টাঙ্গাইল অংশের যমুনা সেতু ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে সৃষ্টি হওয়া যানজট পুরো সড়কে ছড়িয়ে পড়বে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে যাত্রীদের। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এই ১৩ কিলোমিটার সড়কটি এবারও ভোগান্তিতে ফেলতে পারে সাধারণ মানুষদের।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ পায় আব্দুল মোনেম লিমিটেড। ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। আব্দুল মোনেম লিমিটেড ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলছে। সার্ভিস লেনের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজ চলছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কের মাঝখানে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণে জড়িত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাইজিংবিডি ডটকমের এই প্রতিবেদক। মফিজ ও আব্দুল আলিম নামের দুই শ্রমিক বলেন, “পাঁচ মাস ধরে এখানে কাজ করছি। দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে। তাই, দিন-রাত দ্রুত গতিতে কাজ করছি।”
উত্তরবঙ্গগামী এনা পরিবহনের চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, “কয়েক বছর ধরে এ মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে এ মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, আমাদের জানা নেই। শুধু ঈদ আসলেই এ মহাসড়কে তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়। অন্য সময়ে কাজের তেমন গতি দেখা যায় না। কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও যানজটের আশঙ্কা করছি।”
আরেক বাসচালক মো. নান্নু মিয়া বলেন, “এলেঙ্গায় মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে, ঈদ আসলেই এ মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যানজটে পড়তে হয়।”
বগুড়াগামী বাসের যাত্রী হযরত আলী জানান, তিনি ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিবছরই ঈদে বাড়ি ফিরতে এই মহাসড়কে যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও ঈদে বাড়ি ফিরতে ভোগান্তিতে পরতে হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেছেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী সার্ভিস লেনটি খুলে দেওয়া হবে। এলেঙ্গাতে যে পরিমাণ জায়গা দখল করে ফ্লাইওভারের কাজ করা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি বিকল্প সড়ক করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চার লেনের সুবিধা পাবে যানবাহনগুলো।”
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানিয়েছেন, ঈদে মানুষ যাতে যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, এজন্য মহাসড়কে ১ হাজার পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল থাকবে।
ঢাকা/কাওছার/রফিক