নির্দেশের পরও সরেনি অবৈধ দোকান, চন্দ্রা মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুরের একটি সড়ক দখল করে বসা ভ্রাম্যমাণ দোকান
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যানজটের ভোগান্তি কমাতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা। যে কোনো মূল্য ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চান তারা। তবে, এসব বাস্তবায়নে এখনো জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি গাজীপুরের নাওজোর হাইওয়ে পুলিশকে। ভাসমান দোকান ও অবৈধ স্থাপানা মহাসড়কের পাশ থেকে সরানো না হওয়ায় ঈদযাত্রায় যানজট এবং ভোগান্তির শঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চন্দ্রা কেন্দ্রিক সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় আসেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস-উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি। তিনি হাইওয়েতে থাকা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ, রাস্তা দখল, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, গণপরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন। তবে, তার নির্দেশনার পরেও নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরো পড়ুন: ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় টলারেট করা হবে না: হাইওয়ে ডিআইজি
এলাকাবাসী ও সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রায় ১৯-২০টি জেলার মানুষ ঘরে ফেরেন। ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়কের কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় গাড়ির লম্বা সারি। মহাসড়কে থাকা অবৈধ দোকানের কারণে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল বাড়তে থাকলে যানজট ছড়ায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। ফলে প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিড়ম্বনায় পড়েন ঘরমুখো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় শনিবার থেকে ঘরমুখো যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। কোনাবাড়ি, সফিপুর, মৌচাক, পল্লিবিদুৎ, চন্দ্রা এলাকায় হাজার হাজার ভাসমান দোকান বসেছে মহাসড়কের পাশে। দোকানের কারণে মহাসড়কের আয়তন কমে সরু লেন হয়ে গেছে। দোকান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা নেওয়া হয় বলে জানান কয়েকজন দোকানদার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন স্থানে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, এলোমেলো হয়ে যানবাহনের জটলা সৃষ্টি, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানার কারণে মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজট লেগে থাকে। মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচল, ত্রুটিপূর্ণ লেনের কারণে গাড়ির গতি মন্থর হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাসিক অর্থের বিনিময়ে ভাসমান দোকান বসানোর ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশকে এসবের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।”
বাসচালক রফিকুল জানান, নানা কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। যাত্রী ও চালকদের অনেক সময় নষ্ট হয়। যানজট নিরসনে প্রশাসনের উচিত হবে আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া।
আলমগীর ও কাওসার নামে দুই দোকানদার জানান, সংসার চালানোর জন্য সড়কের পাশে বসতে হচ্ছে। অসংখ্য দোকানদার বসছেন। এ জন্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় বলেও জানান তারা।
নাওজোর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওগাতুল আলম বলেন, “আমরা সড়কের পাশ থেকে দোকান উচ্ছ্বেদ করব না এটা তো বলিনি। জনবল কম রয়েছে, শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।”
ঢাকা/রেজাউল/মাসুদ