ঢাকা     শনিবার   ২১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৮ ১৪৩২ || ১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে বিশ্বে শান্তি কামনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৩, ২১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৮, ২১ মার্চ ২০২৬
শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে বিশ্বে শান্তি কামনা

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে লাখ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণ আর নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় নামাজ শুরু হয়। দুই শতকের ঐতিহ্য ধরে রেখে আবারো জনসমুদ্রে পরিণত হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ।

ভোর হওয়ার আগেই নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকে একদিন আগে কিশোরগঞ্জে চলে আসেন। সকালে ঈদগাহমুখী সব রাস্তা মুসল্লিতে ভরে যায়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে বিশ্বে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ, বিশ্বশান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরো পড়ুন:

জামাত শুরুর অনেক আগে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের রাস্তা, নদীর পাড়, ফাঁকা জায়গা এবং বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। চার স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যেক মুসল্লিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। ছাতা, লাঠিসোঁটা, দিয়াশলাই বা লাইটার নিয়ে কাউকে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

চার প্লাটুন সেনাবাহিনী, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্য মাঠ ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা থাকলেও মুসল্লিরা হাসিমুখে সহযোগিতা করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

৩০ বছর ধরে স্বপ্ন ছিল জীবনে একবার হলেও এখানে নামাজ পড়বেন সাতক্ষীরার ৫৬ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষক শেখ শফিকুল ইসলাম। তার স্বপ্ন এবার পূরণ হযেছে। তিনি জানান, একটি স্বপ্ন ছিল, যে স্বপ্ন ছিল দীর্ঘ ৩০ বছরের। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইফতারের পর সাতক্ষীরা থেকে বাসে করে রওনা দেন তিনি। কিশোরগঞ্জে পৌছান বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে। এরপর পা রাখেন তার স্বপ্নের জায়গায়। যার জন্য এতদূর আসা। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে জামায়াতে ঈদের নামাজ আদায় করার পর শফিকুলের মুখের হাসি বলে, তার স্বপ্নপূরণে তিনি কতটা আন্দদিত।

রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়। ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়। অগণিত মুসল্লি ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণ্যমান্য বক্তিরা নামাজ আদায় করেন।

জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। এছাড়াও অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

এ সময় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, এবার স্বতঃস্ফুর্তভাবে লাখ লাখ মুসুল্লি শোলাকিয়া জামাতে অংশ নিয়েছেন। মুসুল্লিদের আসা-যাওয়াসহ সার্বিক নিরাপত্তার শতভাগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। মাঠের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যের জন্য সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী ঈদুল ফিতর আরো জামজমকপূর্ণ হবে।

শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের অলিগলিতে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়। মাঠে ছিল তিনটি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিক্যাল টিম ও অগ্নিনির্বাপণ দল। আর স্কাউট সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন। তারা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারেন, এ কারণে এবারো মাঠে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

জনশ্রুতি আছে, মোগল আমলে এই পরগনার রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। সেই সোয়া লাখ থেকে সময়ের বিবর্তনে নাম হয় শোলাকিয়া। আবার ইতিহাস বলছে, ১৮২৮ সালে এখানে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন, সেই সোয়া লাখ থেকে এই মাঠ ধীরে ধীরে শোলাকিয়া ঈদগাহ নামে পরিচিতি পায়।

ঢাকা/রুমন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়