কলার মোচা দেখিয়ে থামানো হয় ট্রেন, কয়েকশ’ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা
দিনাজপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরামপুর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়েছেন এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি। এতে প্রাণে বেঁচেছেন কয়েকশ’ যাত্রী।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের মাস্টার শওকত আলী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনামুল হক বিরামপুর উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে।
এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, “প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ আমার চোখে পড়ে, লাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙে আলগা হয়ে আছে। বিরামপুর স্টেশনে খবর পৌঁছানোর মতো সময় হাতে ছিল না। এর মধ্যেই দক্ষিণ দিক থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের হুইসেল শুনতে পাই। কাছে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে দ্রুত পাশের একটি কলাগাছ থেকে মোচা ছিঁড়ে নিই। মোচার লালচে পাপড়িগুলো একটি লাঠির আগায় বেঁধে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে সিগন্যাল দিতে থাকি। হাতে থাকা সেই প্রতীকী লাল পতাকা দেখে চালক ট্রেনটি নিরাপদ দূরত্বে থামান।”
এনামুল হকের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী শাহিনুর দ্রুত রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে পার্বতীপুর থেকে রেলওয়ের প্রকৌশলী টিম ও শ্রমিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা কাঠের স্লিপার দিয়ে বিকল্প উপায়ে অস্থায়ীভাবে লাইন মেরামত করলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ফুলবাড়ী স্টেশনের মাস্টার শওকত আলী বলেছেন, “এনামুল হকের সচেতনতার কারণে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
ঢাকা/মোসলেম/রফিক