পাবনায় হামের প্রাদুর্ভাব, সপ্তাহে আক্রান্ত ২৩
পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পাবনায় হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এখনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সাত দিনে জেলায় ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন।
বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৭ জন হামের রোগীর মধ্যে ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫ জন। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুইজন মধ্যে একজনের বয়স ২২ বছর, অন্যজনের বয়স ৩২ বছর।
দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীতে ঠাসা। মেঝেতেও রোগী। হেঁটে যাবার উপায় নেই। শিশু ওয়ার্ডে একেকটি শয্যায় দুইজন, তিনজন করে ভর্তি। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি কাঁচঘেরা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন। সেখানেও একেকটি শয্যায় দুইজন করে। মেঝেতে চার শিশু চিকিৎসাধীন।
পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন হামে আক্রান্ত তার চার মাস বয়সী মেয়েকে গত ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ হয়নি। তিনি জানান, তার মেয়ের প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর আসে। তারপর শরীরে, মুখে লাল গুটি গুটি বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে। বিছানায় ঘুমাতে পারে না। এমন অবস্থায় তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত কলেছেন চিকিৎসকরা।
একই উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম তার ৯ মাস বয়সী নাতি মাশরাফকে কোলে নিয়ে পায়চারী করছিলেন। তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সুফিয়া বেগম জানান, গত শনিবার (২৮ মার্চ) তার নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখানে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। এই কক্ষে ডাক্তার আসলে নার্সদের ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। আর রুমটাও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না।
সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুন হামে আক্রান্ত তার ৮ মাস বয়সী ছেলে সাফায়াতকে ঈদের পর দিন ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আর নার্স, পরিচ্ছনতাকর্মী কেউ এই রুমে আসতে চাচ্ছে না।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, হামের রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি তারা নজরদারিতে রেখেছেন।
আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, হাম ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুসহ যেকোনো বয়সী মানুষের হাম হতে পারে। আপাতত ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় সংকট নেই।
রোগীর স্বজনেদের অভিযোগ বিষয়ে সহকারী পরিচালক বলেন, ‘‘৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ রোগী। আমাদের তো ওই ৩৮ শয্যার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু সংকটতো থেকে যায়।’’ তবে হামের জন্য নতুন করে একটি ওয়ার্ড চালুর কথা জানান তিনি।
টিকা নেওয়ার পরও কী কারণে হঠাৎ করে হামের এমন প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, সে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু-চারজন করে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। যেকারণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। যেহেতু ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার পরও নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে, এ বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
ঢাকা/শাহীন/বকুল
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী