একেকটি পিঁপড়ার দাম ২২০ ডলার
কেনিয়ায় পিঁপড়ারা এখন বিমানে করে বিদেশ যাচ্ছে। অবশ্য, স্বেচ্ছায় নয়। পাচারকারীরা বাক্সে করে শত শত পিপড়া বিদেশে পাচার করছে।
বর্ষাকালে কেনিয়ার রিফট ভ্যালির একটি শান্ত কৃষিপ্রধান শহর গিলগিল এবং তার আশেপাশে হাজার হাজার পিঁপড়ার ঢিবি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পিঁপড়াকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এই শহরটি এখন একটি রমরমা অবৈধ ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রজননকালে ডানাবিশিষ্ট পুরুষ পিঁপড়ারা রানীদের নিষিক্ত করার জন্য বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং রানীরাও এই সময়ে উড়তে শুরু করে। এটি রানী পিঁপড়াদের খুঁজে বের করে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করার জন্য উপযুক্ত সময়। এই কালোবাজারিরা স্বচ্ছ খাঁচায় পিঁপড়া পোষার প্রতি মানুষের ঝোঁককে কাজে লাগায়, যা এই পতঙ্গদের ব্যস্তভাবে উপনিবেশ গড়ার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পিঁপড়ে সংগ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হলো দৈত্যাকার আফ্রিকান হারভেস্টার রানী পিঁপড়া, যেগুলো আকারে বড় এবং লাল রঙের হয়। কালোবাজারে একটি রানী পিঁপড়ার দাম ২২০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। আর এই কারবার সাধারণত অনলাইনে পরিচালিত হয়।
একটিমাত্র নিষিক্ত রানী পিঁপড়া একটি সম্পূর্ণ কলোনি তৈরি করতে সক্ষম এবং কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে। এই পিঁপড়া সহজেই ডাকযোগে পাঠানো যায়, কারণ স্ক্যানার সাধারণত জৈব পদার্থ শনাক্ত করতে পারে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বিবিসি-কে জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি একসময় দালাল হিসেবে কাজ করে বিদেশি ক্রেতাদের স্থানীয় সংগ্রহ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করতেন।
তিনি বলেন, “প্রথমে আমি জানতামই না যে এটা বেআইনি।”
মেসর সেফালোটিস নামেও পরিচিত এই পিঁপড়াগুলো পূর্ব আফ্রিকার স্থানীয় এবং এদের স্বতন্ত্র বীজ সংগ্রহের আচরণের জন্য পরিচিত। এই বিষয় দুটি এদেরকে পিঁপড়া সংগ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
সাবেক ওই দালাল বলেন, “এক বন্ধু আমাকে বলেছিল যে একজন বিদেশি রানী পিঁপড়ার জন্য ভালো দাম দিচ্ছে – সেই বড় লাল রঙেরগুলো, যেগুলো এখানে সহজেই দেখা যায়।”
তিনি বলেন, “খোলা মাঠের কাছে এই পিঁপড়ড়ার ঢিবিগুলো খুঁজতে হয়, সাধারণত খুব ভোরে, গরম পড়ার আগে। বিদেশিরা কখনো নিজেরা মাঠে আসত না — তারা শহরে, কোনো অতিথিশালায় বা গাড়িতে অপেক্ষা করত, আর আমরা তাদের সরবরাহ করা ছোট ছোট নল বা সিরিঞ্জে পিঁপড়ে ভরে তাদের কাছে নিয়ে যেতাম।”
কেনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসার ব্যাপকতা গত বছর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই সময় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় নিকটবর্তী হ্রদ-তীরবর্তী শহর নাইভাশার একটি গেস্ট হাউসে পাঁচ হাজার দৈত্যাকার হারভেস্টার পিঁপড়ার রানীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই রানীদের বেশিরভাগই গিলগিলের আশেপাশে থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস)-এর মতে, বেলজিয়াম, ভিয়েতনাম এবং কেনিয়ার সন্দেহভাজনরা টেস্ট টিউব এবং সিরিঞ্জগুলোতে ভেজা তুলা ভরে রেখেছিল, যা প্রতিটি পিঁপড়াকে দুই মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে সাহায্য করত। পরিকল্পনা ছিল এগুলোকে ইউরোপ ও এশিয়ায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার।
পিঁপড়ার এই ব্যবসা বিজ্ঞানী এবং কর্তৃপক্ষকে হতবাক করে দিয়েছে।
পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি হাতির দাঁত এবং গন্ডারের শিং সংক্রান্ত বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের সঙ্গেই বেশি পরিচিত।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্টস আর আস’ দৈত্যাকার আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়াকে ‘অনেকের স্বপ্নের প্রজাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে — যদিও রানী পিঁপড়াগুলো বর্তমানে স্টকে নেই এবং তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এগুলো সংগ্রহ করা খুব কঠিন।
ঢাকা/শাহেদ
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী