ঢাকা     শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩২ || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গোসল না করায় শিশুকে বেত্রাঘাত, শিক্ষক আটক

নরসিংদী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬  
গোসল না করায় শিশুকে বেত্রাঘাত, শিক্ষক আটক

নরসিংদীতে গোসল না করায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেদম পিটিয়েছেন শিক্ষক। এতে শিশুটি সারা শরীরে কালশিটে দাগ ও একাধিক স্থান রক্তাক্ত হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে বেত্রাঘাত করা হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) আহত শিশুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

নরসিংদী পৌর শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড়ে অবস্থিত মাদ্রাসাতুল আবরার এরাবিয়ায় নূরানি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ হোসেনকে গোসল না করার অভিযোগে বেত দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চামড়া ফেটে রক্তক্ষরণ হয়।

মুজাহিদ হোসেন শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

মুজাহিদ জানিয়েছে, গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় শিক্ষক নাজমুল ইসলাম তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। মারধরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয় দেখানো হয়।

শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান।

ভুক্তভোগীর ফুপু শাকিলা বেগম বলেছেন, “এতদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন নির্যাতনের খবর দেখেছি। এবার আমাদের পরিবারের শিশুই শিকার হলো। কিছু শিক্ষকের আচরণে পুরো আলেম সমাজের বদনাম হচ্ছে। একটি শিশুকে এভাবে প্রহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেছেন, “শিশুটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।”

এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। 

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল-মামুন বলেছেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা/হৃদয়/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়