ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: পরিবারের চারজনের কেউই বেঁচে রইল না

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০১, ১৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ১২:১০, ১৭ জুন ২০২৬
গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: পরিবারের চারজনের কেউই বেঁচে রইল না

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ১৩ বছরের শিশু মিম মারা গেছে। এ নিয়ে একই পরিবারের চারজনের সবাই মারা গেলেন।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যায় মিম। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবার এখন না ফেরার দেশে।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “আইসিইউর ১৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মিমের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। মঙ্গলবার ভোরের দিকে সে মারা যায়।”

এর আগে, একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন দুপুরে মারা যান মিমের মা সুলতানা বেগম (৩৫)। তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত ১৫ জুন ভোরে আইসিইউর ১৫ নম্বর বেডে মারা যান মিমের বাবা আব্দুল মান্নান (৫০)। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর ৩ নম্বর বেডে মারা যান মিমের ভাই সিয়াম (১৯)। তার শরীরের ৭৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

বর্তমানে ওই ঘটনায় মিমদের প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮) জীবিত রয়েছে। তার শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

গত ১১ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হন। দ্রুত তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার জানান, সেদিন সকালে আগুন লাগার খবর শুনে গিয়ে দেখি সবারই অবস্থা খুব খারাপ। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর একে একে চারজনই চলে গেছে না ফেরার দেশে। পরিবারটির আর কেউই বেঁচে থাকলো না।

ঘটনার পর কাঁচপুর ফায়ার সাভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ ছিল। ফলে সারারাত গ্যাস বের হয়ে রুমের মধ্যে জমাট ছিল। সকালে আগুনের স্পর্শ পেতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ ৫ জন দগ্ধ হয়।

ঢাকা/অনিক/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়