ঢাকা     সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৩ ১৪৩২ || ২৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার: প্রজন্মের আলোকবর্তিকা

ই এম সৌরভ, ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ১৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৫:৫৭, ১৬ মার্চ ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার: প্রজন্মের আলোকবর্তিকা

শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, শাহবাগের যানজট আর টিএসসির চায়ের কাপের আড্ডা—সবকিছুর সমান্তরালে এক শান্ত, গম্ভীর ও ধ্রুপদী অস্তিত্বের নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কলা ভবন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় যে লাল ইটের দালানটি দাঁড়িয়ে আছে, সেটি কেবল একটি গ্রন্থাগার নয়; সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত মহাফেজখানা। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত, এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক প্রজন্মের স্বপ্ন বুননের কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইতিহাসের অলিগলি

আরো পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল। তৎকালীন ঢাকা কলেজের ১৮,০০০ বই নিয়ে এই লাইব্রেরির যাত্রা শুরু। শুরুতে এটি ছিল ঢাকা হলের (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) একটি অংশে। এরপর জগন্নাথ হলের পুরনো ভবনে এবং দীর্ঘ বিবর্তনের পর বর্তমান স্থানে এটি তার স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

গ্রন্থাগারটির প্রতিটি ইটে জড়িয়ে আছে জ্ঞানচর্চার ঘ্রাণ। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর নীরব সাক্ষী এই ভবনটি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুদ্ধিজীবী নিধনে মেতে উঠেছিল, তখন এই গ্রন্থাগারের সম্পদও হুমকির মুখে পড়েছিল। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অদম্য চেষ্টায় এবং পরবর্তীকালে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এটি তার গৌরব ধরে রেখেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল। তৎকালীন ঢাকা কলেজের ১৮,০০০ বই নিয়ে এই লাইব্রেরির যাত্রা শুরু। শুরুতে এটি ছিল ঢাকা হলের (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) একটি অংশে। এরপর জগন্নাথ হলের পুরনো ভবনে এবং পরে বর্তমান স্থানে এটি স্থায়ী রূপ পায়।

গ্রন্থাগারটির প্রতিটি ইটে জড়িয়ে আছে জ্ঞানচর্চার ঘ্রাণ। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবকিছুর নীরব সাক্ষী এই ভবনটি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুদ্ধিজীবী নিধনে মেতে উঠেছিল, তখন এই গ্রন্থাগারের সম্পদও হুমকির মুখে পড়েছিল। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অদম্য চেষ্টায় এবং পরবর্তীকালে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এটি তার গৌরব ধরে রেখেছে।

স্থাপত্য ও বিন্যাস

গ্রন্থাগারটি প্রধানত তিনটি বড় ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। প্রশাসনিক ভবন: যেখানে লাইব্রেরির মূল দাপ্তরিক কাজ এবং বই কেনা ও ক্যাটালগিংয়ের কাজ চলে। মূল ভবন: যেখানে বিশাল বিশাল সব রিডিং রুম বা পাঠকক্ষ রয়েছে। এর স্থাপত্যশৈলী এমনভাবে তৈরি যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। বিজ্ঞান শাখা: বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক একটি ভবন রয়েছে যা কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

লাইব্রেরির প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্য এবং ভেতরের শান্ত পরিবেশ যে কাউকেই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এখানকার বইয়ের তাকগুলো যেন এক একটি সময়ের সুড়ঙ্গ, যেখানে হাত দিলেই পাওয়া যায় কয়েক দশক বা শতাব্দী আগের জ্ঞানের পরশ।

দুর্লভ পাণ্ডুলিপির খনি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সবচেয়ে গর্বের জায়গা হলো এর ‘পাণ্ডুলিপি বিভাগ’। এখানে প্রায় ৩০,০০০-এর বেশি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সংস্কৃত, ফার্সি, আরবি, বাংলা এবং তিব্বতি ভাষায় লেখা এসব পাণ্ডুলিপি আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অকাট্য দলিল।

এখানে এমন কিছু পাণ্ডুলিপি আছে যা তালপাতার ওপর লেখা কিংবা হাতে তৈরি বিশেষ কাগজে লেখা। মহাকবি আলাওলের কাব্য থেকে শুরু করে প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলী—কী নেই এখানে? গবেষকদের কাছে এটি এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার। এই বিভাগটিকে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ করার কাজও বর্তমানে চলমান।

সাত লাখ বইয়ের সংসার

বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখের বেশি। দেশি-বিদেশি দুর্লভ বইয়ের পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিশাল এক জার্নাল সংগ্রহ। বিশ্বের বিখ্যাত সব ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইগুলো এখানে নিয়মিত যুক্ত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিদ্যা, কিংবা ক্ল্যাসিক সাহিত্য থেকে শুরু করে আধুনিক ন্যানোটেকনোলজি, সব বিষয়ের বই এখানে থরে থরে সাজানো।

শুধু বই নয়, এখানে কয়েক দশকের পুরনো সংবাদপত্র সংরক্ষিত আছে। ১৯৫২ সালের ‘আজাদ’ পত্রিকা বা ষাটের দশকের ‘ইত্তেফাক’ এর কপিগুলো এখানে মাইক্রোফিল্ম আকারে পাওয়া যায়। কোনো গবেষক যদি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে কাজ করতে চান, তবে তার প্রথম এবং প্রধান গন্তব্য হয় এই গ্রন্থাগার।

সকালের দীর্ঘ লাইন ও স্বপ্নের শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির কথা বললেই যে দৃশ্যটি চোখে ভাসে, তা হলো ভোরে গেটের সামনে হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘ লাইন। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল হোক কিংবা বর্ষার ঝুম বৃষ্টি, লাইব্রেরির গেট খোলার আগে শিক্ষার্থীদের এই প্রতীক্ষা এক অনন্য দৃশ্য।

কেন এই লাইন? অনেকে ভাবতে পারেন, পড়ার জন্য এত আগ্রহ? আসলে এর পেছনে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা আর আগামীর স্বপ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য হলের রিডিং রুম অনেক সময় পর্যাপ্ত হয় না। তাই তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির শান্ত পরিবেশে পড়ার জন্য ভোর থেকে অপেক্ষা করেন।

তবে, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর প্রত্যেক শিক্ষার্থী হলে বরাদ্দ পাওয়াই এবং চাকরি প্রার্থীরা হল ছেড়ে দেওয়াই বর্তমান শিক্ষার্থীরা রিডিং রুমে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়াই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে চাপ কমে এসেছে এবং এই দীর্ঘ লাইন এখন ইতিহাস মাত্র।

এখানে শুধু পাঠ্যবই পড়া হয় না। লাইব্রেরির একটি বিশাল অংশ দখল করে থাকে চাকরিপ্রার্থীরা, বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। টেবিলে টেবিলে নীল রঙের ‘প্রিলি’ গাইড কিংবা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স খোলার দৃশ্য এই লাইব্রেরির এক রূঢ় কিন্তু বাস্তব চিত্র। শিক্ষার্থীদের কাছে এই লাইব্রেরি মানে ‘চাকরির টিকিট’ পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারখানা।

ডিজিটাল বিপ্লব ও ই-রিসোর্স

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছে। এখন আর কার্ড ক্যাটালগ দেখে বই খোঁজার দিন নেই। শিক্ষার্থীরা এখন ‘OPAC’ (Online Public Access Catalog) ব্যবহার করে সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় বই খুঁজে নিতে পারছেন।

গ্রন্থাগারটি বর্তমানে বিশ্বের নামী ই-রিসোর্স সাইটগুলোর সাথে যুক্ত। 'JSTOR', 'Emerald', 'Oxford Journals'-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে হাজার হাজার গবেষণাপত্র ডাউনলোড করতে পারছেন। লাইব্রেরির ভেতরে রয়েছে হাই-স্পিড ওয়াইফাই সুবিধা এবং কম্পিউটার ল্যাব। ফলে একজন শিক্ষার্থী কেবল নীলক্ষেতের ছাপা বইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি বৈশ্বিক জ্ঞানের সাথে যুক্ত হতে পারছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু কর্নার

বাঙালির জাতিসত্তা ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবদান, তার প্রতিফলন দেখা যায় এই গ্রন্থাগারে। লাইব্রেরির ভেতরে একটি সুসজ্জিত ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ রয়েছে। যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর লিখিত কয়েক হাজার বই রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি এক অনন্য উদ্যোগ

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ

সাফল্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মাত্র প্রায় ২০০০-২৫০০ শিক্ষার্থী একসাথে বসতে পারেন, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

এছাড়া, পুরনো বইগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ এবং ধুলোবালি মুক্ত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সব কক্ষে না থাকায় গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ বসে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। লাইব্রেরির ক্যান্টিনের স্বল্পতা এবং শৌচাগারগুলোর আধুনিকায়ন নিয়ে প্রায়শই অভিযোগ শোনা যায়। তবে প্রশাসন নিয়মিতভাবে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

লাইব্রেরি নিয়ে আবেগ ও সংস্কৃতি

লাইব্রেরির পেছনের বারান্দা বা সামনের চত্বরে বিকেলের দিকে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। সারাদিন পড়ার পর ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন। এই লাইব্রেরি কতজনের প্রেমের সাক্ষী, কতজনের বিচ্ছেদের সাক্ষী আর কত শত বন্ধুর খুনসুটির সাক্ষী তার হিসেব নেই। লাইব্রেরির সামনে ‘ডার্ক রুম’ বা অন্ধকার গলি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

শিক্ষার্থীরা যখন পাশ করে চলে যায়, তখন তারা সবচেয়ে বেশি মিস করে লাইব্রেরির সেই নির্দিষ্ট টেবিলটি, যেখানে বসে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছিল। এই লাইব্রেরি তাদের দ্বিতীয় নিবাস।

কী ভাবছেন শিক্ষার্থীরা?

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক রানা বলেন, “আমাদের মূল সমস্যা হলো আসন সংকট। ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র আড়াই হাজার আসন কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।”

তিনি বলেন, “তবে আশার কথা হলো, ডাকসু গত কয়েক বছরে লাইব্রেরির ই-রিসোর্স সেকশন উন্নত করতে প্রশাসনকে বাধ্য করেছে। আগে আমরা অনেক বিদেশি জার্নাল এক্সেস করতে পারতাম না, ডাকসুর প্রতিনিধিদের চাপে এখন ওয়াইফাই স্পিড বেড়েছে এবং ডিজিটাল ল্যাবটি আরও কার্যকর হয়েছে। ডাকসু যদি নিয়মিতভাবে লাইব্রেরি বডিকে মনিটর করে, তবে আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং সিট দখলের অসুস্থ সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন, “বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের ল্যাব আর থিওরির মাঝে লাইব্রেরিই প্রধান ভরসা। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এর বিশাল ই-বুক কালেকশন। কিন্তু সমস্যা হলো ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের সঠিক গাইডলাইনের অভাব। অনেক শিক্ষার্থী জানেই না কীভাবে দুর্লভ জার্নালগুলো নামাতে হয়। এছাড়া, ওয়াশরুমের অপরিচ্ছন্নতা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বড় বিড়ম্বনা।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিসিএস পরীক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “লাইব্রেরির বর্তমান পরিবেশটা এখন গবেষণার চেয়ে চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি একদিক দিয়ে সমস্যা, কারণ একাডেমিক বই পড়ার জায়গা কমে যাচ্ছে। কিন্তু, আবার সম্ভাবনাও আছে-এখানকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ আমাদের ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করছে। এখানকার মূল চ্যালেঞ্জ হলো বই চুরি ও পাতা ছিঁড়ে ফেলা। অনেক সময় দেখা যায় রেফারেন্স বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নেই।”

তিনি আরো বলেন, “ডাকসু এই সমস্যা সমাধানে লাইব্রেরিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডাকসু যদি প্রতি বছর 'লাইব্রেরি ওরিয়েন্টেশন' প্রোগ্রামের আয়োজন করে, তবে নতুনরা লাইব্রেরির নিয়মকানুন এবং রিসোর্স সম্পর্কে আরো সচেতন হতে পারবে।"

আগামীর ভাবনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারকে একটি ‘স্মার্ট লাইব্রেরি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে কর্তৃপক্ষ। লাইব্রেরির সব সম্পদকে ডিজিটালাইজড করা, রোবটিক বুক ফাইন্ডিং সিস্টেম চালু করা এবং পড়ার জায়গাকে আরো আধুনিক ও আরামদায়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল সেকশনকে আরো সমৃদ্ধ করার কাজ চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার কেবল একটি দালান নয়, এটি একটি জ্ঞানসমুদ্র। এটি এমন এক বৃক্ষ যার শেকড় প্রোথিত আমাদের ঐতিহ্যে আর ডালপালা ছড়িয়ে আছে আধুনিক বিশ্বের গবেষণাগারে। এখানকার ধুলোমাখা শেলফগুলো কথা বলে, প্রতিটি বই এখানে একেকটি দিগন্ত উন্মোচন করে।

যতদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিকে থাকবে, ততদিন এই গ্রন্থাগার হয়ে থাকবে আলোকবর্তিকা। এখান থেকেই তৈরি হবে আগামীর কবি, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং রাষ্ট্রনায়ক। শতবর্ষ পেরিয়েও এই লাইব্রেরি তার আপন মহিমায় উজ্জ্বল, যেন এক শান্ত প্রদীপ যা নিরন্তর পুড়ছে অন্যদের পথ দেখাতে।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়