ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ১০ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৫:৩৬, ১০ জুন ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম

দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।”

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও সহযোগিতা শক্তিশালীকরণবিষয়ক গোলটেবিল সম্মেললে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ)।

উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত বর্তমানে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি।

তিনি বলেন, “এআই আমাদের জন্য অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের শুধু এআই ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না; এ প্রযুক্তিকে সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন, প্রশ্ন এবং দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।”

যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে এসিইউভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কমনওয়েলথভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীদের অধিকতর গতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও সমৃদ্ধ হবে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাভিত্তিক পরিবেশ শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করা, যাতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন ধারণা বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাদান, শিখন ও গবেষণায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।”

উপাচার্য বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী পিছিয়ে থাকবে না। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষাকে সমাজের বাস্তব চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল রাখতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেই নয়, সরকার, শিল্পখাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গেও অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে এসিইউর মহাসচিব অধ্যাপক কলিন রিওর্ডান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, এসিইউর প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়