হল খুলে পরীক্ষা নেওয়ার প্রশ্নে মুখোমুখী প্রশাসন -শিক্ষার্থী
জাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনলাইনে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (২ জুন) অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৭ মে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া বিষয়ে সুপারিশকৃত প্রস্তাব এই সিন্ডিকেট অনুমোদন করেছে। কার্যবিবরণী বের হলে বিভাগগুলো এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের ব্যববস্থা করবে।
এবিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের প্রস্তাবটি সিন্ডিকেট অনুমোদন করেছে। পরীক্ষার আগে কিছু প্রস্তুাতির ব্যাপার আছে। আগামী তিন সপ্তাহের ভেতর আমাদের পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল হতে হবে।
অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশটি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, অনলাইন পরীক্ষাতে অ্যাসাইনমেন্টে ১০ নম্বর, একটি নির্দিষ্ট সময় সীমাবদ্ধ অনলাইন এক্সামে ১০ নম্বর এবং ভাইভাতে ৩০ নম্বর রাখা হয়েছে। এই ৫০ নম্বরকে আবার ৭০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ক্লাস টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ২০ নম্বর এবং ক্লাসে উপস্থিতির উপর ১০ নম্বর। এই ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
উপস্থিতির নম্বর গণনার বিষয়ে তিনি জানান, স্বশরীরে সম্পন্ন ক্লাসগুলো যদি ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে থাকে, তবে সেই ৫০ শতাংশকে ধরে মার্কস গণনা করা হবে। তবে অনলাইন ক্লাসসমূহের ক্ষেত্রে মার্কস গণনা করা হবে না। অনলাইনে ৫০ শতাংশের বেশি ক্লাস হলে সেক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট বা অন্য কোনোভাবে এই ১০ মার্কস পূরণ করতে হবে।
এদিকে একই দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হল খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
আজ বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলছেন যে হল নির্মাণ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক বলছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আগে হলগুলোতে শিক্ষার্থী ওঠানো সম্ভব না। শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের দাবি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার, অথচ ক্যাম্পাস বন্ধের দেড় বছর পর শুনছি হল নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে।
এই কথা প্রমাণ করে, শুধু করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে আছে এরকম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কাজ চলছে সেখানে যে দুর্নীতি চলছে, সেই দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রাখতেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।'
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনিসহ সাংস্কৃতিক জোটের প্রচার সম্পাদক সাদিকুর রহমান, ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসাইন।
জাবি/তাজুল/মাহি