ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মহিষ উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ

সিকৃবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:০০, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
মহিষ উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ‘মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী খামারি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই), সাভার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন:

গত ১৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রশিক্ষণটি ১৫ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত ৫০ জন মহিষ খামারি অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আবু জাফর মোঃ ফেরদৌস, সিলেট জেলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান মিয়া এবং বিএলআরআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব।

প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুন্নাহার এবং সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা দুগ্ধ খামারের উপপরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম। পুরো প্রশিক্ষণ কোর্সটি সমন্বয় করেন বিএলআরআই-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুল হাসান মজুমদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শাকিলা ফারুক বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মহিষ থেকে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হন। উন্নত জাত নির্বাচন, কৃত্রিম প্রজনন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রাণী চিকিৎসা ও খামার ব্যবস্থাপনা আরো সহজ হয়েছে। লাভজনক ও টেকসই মহিষ পালনের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।”

প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব বলেন, “মহিষ পালন দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুধ, মাংস ও চামড়া সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি গ্রহণ করলে উৎপাদন ও লাভজনকতা আরও বৃদ্ধি পায়।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুন্নাহার বলেন, “বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহিষ পালন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মহিষ পালনের জন্য উপযোগী হওয়ায় অল্প খরচে খামার স্থাপন সম্ভব। মহিষের দুধের উচ্চ বাজারমূল্য তরুণদের নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে।”

সমাপনী বক্তব্যে মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, “মহিষ উৎপাদনে আন্তঃপ্রজনন একটি বড় সমস্যা, যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রজনন ষাঁড় পরিবর্তন এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের বীর্য ব্যবহার করলে গুণগত বংশ বৃদ্ধি সম্ভব।”

তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত জাত নির্বাচন, স্বল্প খরচে দুধালো মহিষের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, সুষম দানাদার খাদ্য মিশ্রণ, সাইলেজ ও ইউএমএস তৈরির কৌশল এবং টিকাদান ও কৃমি নিয়ন্ত্রণসহ মহিষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে খামারিরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লাভজনক মহিষ খামার গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তারা মহিষের গুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকা ও উন্নত জাতের বীজ সহজলভ্য করার দাবি জানান।

ঢাকা/আইনুল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়