ঢাকা     রোববার   ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবিতে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, প্রশাসন ভবনে তালা

ইবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:১৫, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইবিতে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, প্রশাসন ভবনে তালা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির অসহযোগিতায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনে তালা মেরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় নিয়োগ স্থগিতের কারণসহ জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ সম্পন্নের দাবি জানান তারা।

আরো পড়ুন:

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রশাসনের গেইটে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির, খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইবি সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ জার্নালিজমের বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজটের অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষক সংকট। ৫ আগস্ট পরবর্তী অল্প পরিসরে হলেও শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছিল প্রশাসন। আজ জার্নালিজম বিভাগের নিয়োগ বোর্ড থাকলেও কাদের ইন্ধনে  প্রশাসন স্থগিত করেছে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে স্বচ্ছ্বতার সাথে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত শিশির বলেন, “মাত্র দুইজন শিক্ষক কঠোর পরিশ্রম করে আমাদের বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা যখন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করলাম যে, আমাদের বিভাগে নতুন তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একজন লেকচারার নিয়োগ দিয়ে তারা আমাদের থামিয়ে রেখেছে। আজকে আমরা শুনতে পাচ্ছি এই নিয়োগ বোর্ডকে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক কোন কারণে নিয়োগ বন্ধ করছে সেগুলো আমরা জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানতে চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের শিক্ষক নিয়োগ দেবেন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলন করবে।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে ২টি সহকারী অধ্যাপক পদে ও ১টি প্রভাষক পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

যথাসময়ে  নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড শুরু করতে বিভাগটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান ভিসিকে বলেন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার সকাল ১০টা থেকে বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত থাকেন। এতে দু'ঘন্টা অপেক্ষা করার পর নিয়োগ স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এ ঘটনায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা।

অনুপস্থিতির কারণ জানতে প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিয়োগ স্থগিতে একাধিক প্রার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, যে শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে নিয়োগ স্থগিত হলো তার ভাবা দরকার ছিলো আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। এ রকম হয়রানি করার আগে অন্তত আমাদের অবগত করলে এতো টাকা খরচ করে আসার প্রয়োজনীয়তা ছিলো না।

এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি।”

এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “নিয়োগ বোর্ডে অনুপস্থিত  থাকা শিক্ষককে আজই শোকজ করা হবে। স্থগিতকৃত নিয়োগ বোর্ড আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে যে সকল বোর্ডের সিডিউল নির্ধারিত হয়েছে তা চলমান থাকবে।”

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নতুন করে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়