বিশেষ বৃত্তি ইস্যুতে জবিতে বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ উপাচার্য
জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিশেষ বৃত্তির প্রথম কিস্তির তালিকা থেকে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (২০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘বৃত্তি আমার অধিকার’, ‘রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘জকসু না বৃত্তি—বৃত্তি বৃত্তি’, ‘জকসু ও প্রশাসন, এক দেহ এক মন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করলে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্যান্য ব্যাচের সঙ্গে প্রথম কিস্তিতেই ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির আওতায় আনতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শফিক বলেন, “আমরা চাই বৃত্তির তালিকা সংশোধন করে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ১৫ ব্যাচ থেকে ১৯ ব্যাচের সঙ্গে আমাদেরকেও যুক্ত করতে হবে। দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকায় মোট ১০ হাজার ৩১৯ শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তালিকায় ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮ হাজার ৩৩০ জন এবং দ্বিতীয় তালিকায় ১ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং কম সিজিপিএধারীদের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জকসু জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সবচেয়ে সংকটাপন্ন সময় পার করেন নতুন শিক্ষার্থীরা। সে কারণে বিশেষ বৃত্তির তালিকায় ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরো বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী বিশেষ বৃত্তির সুবিধা নেওয়ার জন্য তথ্য গোপন করেছেন বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করেছেন, তাদের বৃত্তির তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে অথবা আবাসন বরাদ্দ বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।”
এদিকে, ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন যৌক্তিক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ঢাকা/লিমন/জান্নাত