ঢাকা     বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৫ ১৪৩২ || ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অ্যাডভোকেট হলেন ইবির শতাধিক শিক্ষার্থী

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ১৮ মার্চ ২০২৬  
অ্যাডভোকেট হলেন ইবির শতাধিক শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অষ্টম আইনজীবী তালিকায় স্থান পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদের তিন বিভাগের ১৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। বিভাগগুলো হলো—আইন বিভাগ, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ।

গত রবিবার (১৫ মার্চ) বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ইবির আইন বিভাগ থেকে প্রথমবারেই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৪০ জন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১২ জন এবং আগের ব্যাচ মিলিয়ে ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নতুন আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

আরো পড়ুন:

অন্যদিকে, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের প্রথম দুই ব্যাচ (২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯) থেকে ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ১৫ জন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৭ জন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৯ জন এবং আগের ব্যাচসহ মোট প্রায় ৪০ জন নতুন আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৩ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশায় যুক্ত হতে তাদের ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।

আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাফিউল আলম রাফি বলেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। শুরু থেকেই এই পথেই এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের সেশন (২০১৭-১৮) শুধু একটি ব্যাচ ছিল না, এটি ছিল একটি পরিবার, যেখানে আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছি, সংগ্রাম করেছি। নির্ঘুম রাত, পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা, একে অপরকে সাহস দেওয়া, সবকিছু মিলেই আজকের এই সাফল্যকে আরো অর্থবহ করে তুলেছে। এটি আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফল।”

এ অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের সফলতাই আমাদের সফলতা। তারা নিরলস পরিশ্রম করে অ্যাডভোকেট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে—এতে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি, তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকাই আমাদের শিক্ষাদানের সার্থকতা প্রমাণ করবে।”

এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষক ও আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, “আইন অনুষদের তিনটি বিভাগই এবারে সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। আমি আশা করি, সনদপ্রাপ্ত নতুন আইনজীবীরা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবেন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন।”

তিনি আরো বলেন, “শুধু নিম্ন আদালতেই নয়, উচ্চ আদালতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তাদের সফল পদচারণা অনুষদের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।” পাশাপাশি তিনি সবার সার্বিক জীবনের সফলতা কামনা করেন।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়