‘কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে’
হাসান || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েক বছরে দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার হয়েছে। আর এতে বৃত্তিমূলক সুবিধা চালু থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ।
এমনকি কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করার ফলে দেশে-বিদেশে শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও সুবিধা বেড়েছে। পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি শিক্ষা বিশেষ করে বিদেশে শ্রমিকদের সাফল্যের চাবি হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ব ব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট একটি প্রকল্পের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থার ঢাকা কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় নারীরা কারিগরি শিক্ষায় এগিয়ে আসছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত ‘স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এসটিইপি প্রকল্প শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই মাসে। চলতি মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হিসেবে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত দেশের ৯৩টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রায় ৯৬ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি সরকারি এবং ৫০টি বেসরকারি ইনস্টিটিউট।
২০১২ সালে দেশের পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি আহ্বান করা হয়। এর ফলে এ পর্যন্ত নারী সুবিধা ভোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৩৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং ৬৪টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে হাতে-কলমে শিক্ষার প্রতি জোর দিচ্ছে। গত তিন বছরে সরকার ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ১ হাজার ১৪১জন শিক্ষক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এখন শিক্ষক চাহিদার ৯৮ শতাংশই পূরণ করা হয়েছে। নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষকদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে সরকারিভাবে।
প্রসঙ্গত, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়নসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জনগোষ্ঠীকে কর্মবাজারে নিয়গোপযোগী করা এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রশিক্ষণ সেক্টরে সমসাময়িক শ্রমবাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা।
এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু প্রশাসনিক সংস্কারের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে চাহিদানির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি মান নিশ্চিতের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর (ডিইটি) থাকলেও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমটি) এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কানাডা এবং বাংলাদেশ সরকারেরও আর্থিক সহায়তা রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৬ সালে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ মার্চ ২০১৫/হাসান/নওশের
রাইজিংবিডি.কম
৬ থেকে ৫৯ মাসের সব শিশু পাবে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী