ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভাগ অঙ্ক পারে না প্রাথমিকের ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ১৪ জুন ২০২৩   আপডেট: ১৮:৫৮, ১৪ জুন ২০২৩
ভাগ অঙ্ক পারে না প্রাথমিকের ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী

ভাগ অঙ্ক করতে পারে না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৯৫.৮৫ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের ৯৭.২০ শতাংশ ভাগ করতে পারে না।

বুধবার (১৪ জুন) রাজধানীর ইউসেপ, বাংলাদেশের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় শিক্ষা সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশনসহ চারটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।

'শিক্ষার্থীদের শিখন স্তরের বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার গুণগত মান অর্জন' শীর্ষক এক গবেষণায় ৫-১৬ বছর বয়সী রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের এক হাজার ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। জরিপে তাদের খুব সাধারণ কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। যা তারা বিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিখনকালে চর্চা করে। 

এতে দেখা যায়, গণিতের একক অঙ্ক শনাক্ত করতে পারেনি ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী এবং ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী। তবে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিয়োগ অঙ্ক করতে পেরেছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী এবং ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী।

গবেষণার ফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী এবং ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী ইংরেজিতে গল্প পড়তে পারে না। এ ছাড়া ইংরেজি বর্ণ পড়তে পারেনি ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছেলে এবং ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী। তবে, ইংরেজি শব্দ চিহ্নিত করতে পেরেছে ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ ছেলে এবং ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী।

গবেষণায় প্রাপ্ত ফল বলছে, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছেলে এবং ৫৩ দশমিক ১৪ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী বাংলায় গল্প পড়তে পারেনি। আর বাংলা বর্ণমালা পড়তে পারেনি ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ ছেলে এবং ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী। তবে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলায় শব্দ চিহ্নিত করতে পেরেছে ২১ দশমিক ০৯ শতাংশ ছেলে এবং  ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী।

সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখন শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কাজ করতে হবে। শুধু আয় বাড়লে শিক্ষার উন্নতি হবে, তা নয়। এখানে গবেষণা ফল তুলে ধরা হয়েছে। আগামীতে যেন গবেষণার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কোভিডকালে আমাদের যে শিখন ঘাটতি, তা পূরণ করতে কাজ করতে হবে। আমাদের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে আমাদের দিনের পড়া দিনেই শ্রেণিকক্ষে শেষ করতে হবে; নতুন শিক্ষাক্রমে তা করা হয়নি। পাশাপাশি, শিক্ষায় সবার সমান অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিতে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।’

ইয়ামিন/সনি/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়