ভরাডুবির আগেই দায় স্বীকার, চাপে আছেন শাকিব?
শাকিব খান
শাকিব খানকে ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশা সবসময়ই একটু বেশি। কারণ তিনি শুধু একজন নায়ক নন, একাই একটি ইন্ডাস্ট্রি টেনে নেওয়ার শক্তি রাখেন—এটা বহুবার প্রমাণিত। কিন্তু সেই জায়গা থেকেই প্রশ্নটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে, যখন তিনি নিজেই নিজের তৈরি মানদণ্ডে পিছিয়ে পড়েন। আর এবার সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে ‘প্রিন্স’।
‘প্রিয়তমা’ ছিল সেই মোড় ঘোরানো মুহূর্ত, যেখানে নতুন এক শাকিব খানকে দেখা যায়। গল্পে, উপস্থাপনায়, আবেগে—সব মিলিয়ে এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ একটি সিনেমা। সেখান থেকেই দর্শকের প্রত্যাশা বদলে যায়। তারা শুধু ‘হিরোইজম’ না, একটি ভালো সিনেমা দেখতে চায়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়, যখন সেই পরিবর্তনের ধারাটা ধরে রাখা যায় না।
সেই জায়গায় ‘প্রিন্স’ বড় আকারের প্রশ্নবোধক চিহ্নটি তুলে ধরেছে। টানা অ্যাকশন, অতিরিক্ত মারামারি আর দুর্বল গল্প—এই সমীকরণ এখন আর কাজ করছে না। শুধু সমালোচনাই নয়, এর প্রভাব পড়েছে প্রেক্ষাগৃহেও। মুক্তির পর থেকেই দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে সিনেমাটি। হলভিত্তিক প্রতিক্রিয়াও বলছে—প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফারাকটাই এখানে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
সবচেয়ে হতাশার জায়গা—টেকনিক্যাল দুর্বলতা। সাউন্ড, কালার, পোস্ট-প্রোডাকশন—এই জায়গাগুলোতে ঘাটতি থাকলে বড় তারকার উপস্থিতিও সিনেমাকে বাঁচাতে পারে না, বরং সেই দুর্বলতাই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনও কখনও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। একটি সফল সিনেমার পর যদি নির্মাণে তাড়াহুড়া চলে আসে, যদি গল্পের চেয়ে ‘স্টার পাওয়ার’-এর ওপর বেশি ভরসা করা হয়, তাহলে এমন হোঁচট অবশ্যম্ভাবী।
এখানেই শিরোনামের প্রশ্নটা ফিরে আসে—ভারাডুবির শঙ্কা কি আগেই টের পেয়েছিলেন শাকিব খান? না কি বাস্তবতা বুঝেই আগেভাগে দায় স্বীকার করলেন? যদি তাই হয়ে থাকে শাকিব খান একজন গুণী ও পরীক্ষিত শিল্পী। তাড়াহুড়া আর শিডিউল জটিলতা মাথায় নিয়ে সিনেমাটি কেন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শাকিব খান বাদে সিনেমাটির নির্মাতা, প্রযোজকের অভিজ্ঞতা ক্ষীণ। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি ঈদে শাকিব খানের কোনো সিনেমা রেডি না থাকায় তড়িগড়ি করে ‘প্রিন্স’ মুক্তি দিলেন শাকিব?
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস সবার থাকে না। শাকিব খান সেটা করেছেন—এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে। কারণ একজন তারকার প্রকৃত পরীক্ষা হয় ব্যর্থতার পর, সাফল্যের সময় নয়।
এখন প্রশ্ন একটাই, এই ব্যর্থতা কি শুধুই একটি সিনেমার, নাকি পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সতর্কতা সংকেত? সময়ের দাবি পরিষ্কার, ভালো গল্প, শক্ত নির্মাণ, আর আন্তর্জাতিক মানের টেকনিক্যাল কাজ—এই তিনটির সমন্বয় ছাড়া এখন আর দর্শককে ধরা যাবে না।
শাকিব খান যদি সত্যিই নতুন যুগের নায়ক হতে চান, তাহলে তাকে শুধু অ্যাকশনের বৃত্ত থেকে বের হতে হবে তা নয়, তাকে গল্পের ভেতরও ঢুকতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত দর্শক ‘হিরো’ না, একটি ভালো সিনেমাই মনে রাখেন।
ঢাকা/শান্ত
চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী