ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৪৭, ৪ জুলাই ২০২০  

করোনাকাল চলছে। পৃথিবীতে বড় দুঃসময় যাচ্ছে। মানুষ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমনকি মানুষের আত্মবিশ্বাসও কমে যাচ্ছে। এ সময় স্বামী বিবেকানন্দ'র বাণী নিঃসন্দেহে মানুষের জন্য পরম সুধাতুল্য।

এই ‘বীর সন্ন্যাসী'র প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই ভারতের বেলুড় মঠে তিনি দেহত্যাগ করেন। তাঁর শিষ্যদের মতে এটা ছিল মহাসমাধি। মাত্র ৩৯ বছরের জীবনেই সাধনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব জয় করে গেছেন তিনি । তাঁর কর্মকাণ্ড তাঁকে অমর করে রেখেছে।

বিবেকানন্দের জন্ম ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতার এক বাঙালি পরিবারে। বাবার রাখা নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তার বাবা বিশ্বনাথ দত্ত কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবি ছিলেন। বিবেকানন্দর নয় জন ভাই-বোন ছিল। তার মধ্যম ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও বিদেশ ভ্রমণে বিবেকানন্দের সঙ্গী। কনিষ্ঠ ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট সাম্যবাদী নেতা ও গ্রন্থকার।

১৮৮১ সালে তিনি যুগাবতার খ্যাত রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আসেন এবং ১৮৮৭ সালে সন্ন্যাস গ্রহণের পর স্বামী বিবেকানন্দ নাম ধারণ করেন।ছেলেবেলা থেকেই আধ্যাত্মিক বিষয়সমূহে তাঁর বিশেষ আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে তিনি শেখেন, সকল জীবই ঈশ্বরের অংশ। তাই মানুষের সেবার মাধ্যমেই ঈশ্বরের সেবা করা যায়।

গুরুদেবের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ভারতীয় উপমহাদেশ ভ্রমণ করেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৮৯৩ সালে বিশ্বধর্ম মহাসভায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। শিকাগোতে তার সেই বিখ্যাত ভাষণ যা তিনি শুরু করেছিলেন, ‘সিস্টার অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা....’  বলে। যার পর হাত তালিতে ফেটে পড়েছিল অডিটোরিয়াম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপে তিনি হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অসংখ্য সাধারণ ও ঘরোয়া বক্তৃতা দিয়েছিলেন এবং ক্লাস নিয়েছিলেন।

বিভিন্ন ধর্মমতগুলির মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দর। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

স্বামী বিবেকানন্দ'র প্রতিটি কথাই যেন ‘আত্মশুদ্ধির মহৌষধ’। মানুষের আত্মবিশ্বাস জাগাতে তার মুখ থেকে নিঃসৃত বাক্য ছিল অতুলনীয়। তাঁর সর্বাধিক উদ্ধৃত উক্তি  ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ ।

স্বামী বিবেকানন্দ'র কিছু স্মরণযোগ্য উক্তি- 

‘পৃথিবীর ইতিহাস কয়েকজন আত্মবিশ্বাসী মানুষেরই ইতিহাস। সেই বিশ্বাসই ভিতরের দেবত্ব জাগ্রত করে। তুমি সব কিছু করিতে পার।’ 

‘মনে করিও না, তোমরা দরিদ্র। অর্থই বল নহে ; সাধুতাই-পবিত্রতাই বল। আপনাতে বিশ্বাস রাখো। প্রবল বিশ্বাসই বড় কাজের জনক।’

‘হে বীরহৃদয় যুবকগণ ,তোমরা বিশ্বাস কর যে, তোমরা বড় বড় কাজ করবার জন্য জন্মেছ। ওঠ, জাগো, আর ঘুমিও না; সকল অভাব, সকল দুঃখ ঘুচাবার শক্তি তোমাদের ভিতরেই আছে। এ কথা বিশ্বাস করো, তা হলেই ঐ শক্তি জেগে উঠবে।’

‘নিজের উপর বিশ্বাস-ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস। ইহাই উন্নতি লাভের একমাত্র উপায়। তোমার যদি এ দেশীয় পুরাণের তেত্রিশ কোটি দেবতার উপর এবং বৈদেশিকেরা মধ্যে মধ্যে যে সকল দেবতার আমদানি করিয়াছে, তাহাদের সবগুলির উপরই বিশ্বাস থাকে, অথচ যদি তোমার আত্মবিশ্বাস না থাকে, তবে তোমার কখনই মুক্তি হইবে না।’ 

তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- শিকাগো বক্তৃতা, কর্মযোগ, রাজযোগ, জ্ঞানযোগ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদান্ত, ভারতে বিবেকানন্দ, ভাববার কথা, পরিব্রাজক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত, বীরবাণী (কবিতা-সংকলন), মদীয় আচার্যদেব ইত্যাদি। বিবেকানন্দ ছিলেন সংগীতজ্ঞ ও গায়ক। তার রচিত দুইটি বিখ্যাত গান হল ‘খন্ডন-ভব-বন্ধন’ (শ্রীরামকৃষ্ণ আরাত্রিক ভজন) ও ‘নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি’।

 

ঢাকা/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়