ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০২ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাচ্ছে কীটনাশক উৎপাদনকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ৪:২৭:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২০ ৪:২৭:১৯ পিএম

কৃষিখাতে ব্যবহৃত কীটনাশক উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যে মানবদেহ কিংবা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মেশাচ্ছে। আর ভয়ঙ্কর এসব কীটনাশক ধনী দেশগুলোর তুলনায় দরিদ্র দেশগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে বেশি মাত্রায়।

কৃষিবাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ফিলিপ ম্যাকডোগালের ক্রেতা জরিপের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া এসব তথ্য প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ আনআর্থড। পুরো প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ব্রিটিশ সংস্থা গ্রিনপিস ও সুইস এনজিও পাবলিক আই।

এতে, ৪৩টি দেশের কৃষিখাতে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় কীটনাশকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের কীটনাশক বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠান-বায়ার, বিএএসএফ, সিনজেনটা, এফএমসি ও করটেভা (প্রাক্তন ডৌ ও ডুপন্ট)। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৮ সালে মানবদেহ কিংবা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত কীটনাশক বিক্রি করে ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা করেছে। মুনাফার এই পরিমাণ অবশ্য  হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাত্র অর্ধেক  কীটনাশক বিক্রির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বায়ার প্রতিবেদনের তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করলেও তাদের নিজস্ব পরিসংখ্যান দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

দ্য আনআর্থড ও পাবলিক আইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা পণ্যের এক চতুর্থাংশ কীটনাশকে মানব স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাবকারী উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে  ক্যান্সার সৃষ্টির উপাদানও রয়েছে, ১০ শতাংশ কীটনাশকে মৌমাছি ও অন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, ৪ শতাংশ কীটনাশকে মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা, গর্ভস্থ শিশুর সন্তান জন্মদান ক্ষমতায় নষ্ট করে ও যৌন ক্ষমতার হানি ঘটায়।

মানবদেহ কিংবা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানযুক্ত এসব কীটনাশক ধনী দেশগুলোতে বিক্রি হয় মাত্র ২৭ শতাংশ। অথচ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এটি বিক্রির হার ৪৫ শতাংশ। দেশভিত্তিক তালিকায় দেখা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্রির হার সবচেয়ে বেশি-৬৫ শতাংশ, ভারতে বিক্রি হয় ৫৯ শতাংশ। অথচ যুক্তরাজ্যে বিক্রির হার মাত্র ১১ শতাংশ।


ঢাকা/শাহেদ