ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাভাইরাসের প্রকোপে জেরবার ভারত

সুপর্ণা চক্রবর্তী, কলকাতা থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১০ ২:৩১:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ৭:১৯:৪৭ পিএম

করোনা নামের এক অজানা ভাইরাসের ছোবলে পড়ে সমগ্র বিশ্ব জেরবার। এই খবর আমরা প্রত্যেকেই জানি। এদিকে, মানুষের জীবনধারণে ঘটেছে ছন্দপতন। এই ভাইরাসের ছোবল থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশ-ভারতও। 

বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের মতো ভারতও এই ভাইরাসের ছোবলে দিশাহারা। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪১৭ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৯১ জনের।  দেশে ঘোষিত হয়েছে জরুরি অবস্থা। চলছে অনির্দিষ্ট কালের লকডাউন। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকার কথা বললেও তা বেড়ে ১৮ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১১ এপ্রিল (শনিবার) প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করে এই সময়সীমা বাড়াবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দল তাদের নিজস্ব রাজনীতি ভুলে গিয়ে মোদির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য মোদি সবসময়ই আলোচনা করছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী মনমোহন সিংহ, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে। নিজেকে ঘরের মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে না রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছুটে বেড়াচ্ছেন এক দুয়ার থেকে আরেক দুয়ারে—দেশের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে।

এই দীর্ঘ মেয়াদি লকডাউনের জেরে দুস্থ-গরিব মানুষের অন্ন-সংস্থান প্রায় বন্ধ। এ কারণে কেউ যেন না খেতে পেরে মারা না যায়, সেদিক বিবেচনা করে ভারতের কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার থেকে ঘোষিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ। কেন্দ্রীয় সরকার দরিদ্র জনগণের হাতে হাতে তুলে দিচ্ছে রান্নার গ্যাস-সিলিন্ডার; রাজ্য সরকার তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে চাল-ডাল-আনাজপাতিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্রসামগ্রী।  এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। ফুটপাতের বসবাসকারী মানুষের মুখে তারা তুলে দিচ্ছে দুবেলা দুমুঠো অন্ন।

তবে, এই লক ডাউনের মধ্যে ছাড় পেলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কিছু চাল, গম, ডাল ব্যবসায়ী। গতকাল (৯ এপ্রিল) ‘নবান্ন’তে ব্যবসায়িক সমিতির সঙ্গে বৈঠক সেরে এই সিদ্ধান্ত নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ভয়ঙ্কর মহামারির মধ্যে জীবনকে বাজি রেখে যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য দিনরাত জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের জন্য দশ লাখ টাকা করে সরকারি বীমা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, এমএলএ এবং সরকারি আমলাদের মাহিনার ৩০ শতাংশ করে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উইথ আউট পে-তে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত কর্মীদের। কমে গেছে ব্যাংক, পোস্ট অফিসের সুদ, বেড়ে গেছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। আশঙ্কা করা হচ্ছে—লকডাউন সরে গেলে অনেক মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা নেমে যাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে।

 

/এনই/