ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দিল্লিতে করোনার দুই ওষুধ কালোবাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ৭ জুলাই ২০২০  
দিল্লিতে করোনার দুই ওষুধ কালোবাজারে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি জরুরি ওষুধ আর খোলাবাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।  রেমডিসিভির ও টসিলিজুমাব নামের এই ওষুধ সাত গুণ পর্যন্ত বেশি দামে কালোবাজার থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।

বিবিসির এক তদন্তে বলা হয়েছে, অভিনব শর্মা নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা  চাচা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরুর পর ডাক্তার শেষ চেষ্টা হিসেবে রেমডিসিভির ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তবে ভাইরাসরোধী এই ওষুধের তীব্র চাহিদার কারণে সেটি  খোলাবাজারে মেলেনি। চাচার জীবন বাঁচাতে অভিনব তার পরিচিত সবাইকে ফোন দিয়ে রেমডিসিভিরের খোঁজ পাওয়া যায় কিনা জানাতে অনুরোধ করেন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদছিলাম। আমার চাচা জীবনের জন্য লড়ছেন এবং আমি লড়ছিলাম তার প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাব্য ওষুধটির জন্য। ডজন ডজন ফোন কল দেওয়ার পর সাত গুণ দাম দিয়ে পেয়েছিলাম ওষুধটি।’

ভারতে প্রতি ডোজ রেমডিসিভিরের সরকারি বাজার মূল্য ৫ হাজার ৪০০ রুপি। কিন্তু কালোবাজার থেকে তা কিনতে হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩৮ হাজার রুপি দিয়ে। এক জন রোগীর জন্য সাধারণত পাঁচ থেকে ছয়টি ডোজ প্রয়োজন পড়ে।

বিবিসির স্থানীয় সংবাদদাতা কৌশলে এক কালোবাজারির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই ব্যক্তি রেমডিসিভির জোগাড়ের জন্য ‘সঠিক দাম’ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে তিনটি ডোজ জোগাড় করে দিতে পারব। তবে প্রতি ডোজের দাম পড়চে ৩০ হাজার রুপি এবং আপনাকে এখনই আসতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের গিলিড সায়েন্সের উৎপাদিত ওষুধ রেমডিসিভির মূলত ইবোলা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে করোনা চিকিৎসায় এটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অনুমোদন দেয়নি। ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠানকে রেমডিসিভির উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে গিলিড সায়েন্সেস। এদের মধ্যে কেবল হিটোরো ড্রাগস প্রথম ওষুধটি বাজারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে কেবল হাসপাতালগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ২০ হাজার ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে।

হিটোরো ড্রাগসের বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দিপ শাস্ত্রি বলেন, ‘আমরা পরিবেশকদের কাছে ওষুধটি সরবরাহ করা হয়নি। গাইড লাইন অনুযায়ী, আমরা সরাসরি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করেছি।’ কীভাবে এই ওষুধ কালোবাজারে গেল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

ঢাকা/শাহেদ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়