ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

১৫ ঘণ্টারও বেশি ঘরে পড়েছিল করোনায় মৃতের দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
১৫ ঘণ্টারও বেশি ঘরে পড়েছিল করোনায় মৃতের দেহ

প্রতীকী ছবি

জ্বরে ভুগছিলেন বৃদ্ধা মা, কোভিড পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে। হাসপাতালে ভর্তি করাতে চাইলেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান ছেলে। বাড়িতেই ছিলেন উষারানি মণ্ডল, মারা যান বৃহস্পতিবার রাতে। কিন্তু ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘরেই পড়ে ছিল তার মৃতদেহ। এখানেই শেষ নয়, ডেথ সার্টিফিকেট মিলেছে ১২ ঘণ্টা পর। স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ, পৌরসভাসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। ভারতের বাগুইআটির বিধাননগর পৌরসভার কেষ্টপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সমরপল্লীর বাসিন্দা উষারানি, বয়স ৭৫ বছর। জ্বর-সর্দি-কাশির মতো করোনা উপসর্গ নিয়ে গত চার-পাঁচদিন ভুগছিলেন। স্থানীয় ডাক্তারকে দেখানোর পর তার পরামর্শে করোনা পরীক্ষা করা হয় এবং রিপোর্টের ফল পজিটিভ আসে।

কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি করা যায়নি ওই বৃদ্ধাকে। সরকারি থেকে বেসরকারি সব হাসপাতাল বেড নেই বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাই বাড়িতেই থাকতে হয়েছে এবং বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হওয়ার পর ডেথ সার্টিফিকেট পেতেও সমস্যা দেখা দেয়৷ পরে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

তারপর দেখা দেয় সৎকারে সমস্যা। স্বাস্থ্য ভবন, বাগুইআটি থানার পুলিশ, পৌরসভাসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে মৃত্যুর ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পর পুলসভা ও পুলিশের সহযোগিতায় মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানে।

মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর দাবি, এখানে পৌরসভার গাফিলতি নেই। প্রক্রিয়াগত কারণে সময় লেগেছে। তিনি জানান, করোনায় মৃতের সৎকারের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। এমনিতেই বিধাননগরে শ্মশান কিংবা গোরস্থান নেই, ফলে পুরো এলাকায় করোনায় মৃতের সৎকারের জন্য যে যে ব্যবস্থা থাকা দরকার, তাও নেই। পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতা পৌরসভার সহযোগিতা লেগেছে।

এই ধরনের একাধিক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী শহর ও শহরতলী। কিছুদিন আগে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বাড়িতে পড়ে ছিল করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের দেহ। ঘটনাটি ঘটেছিল বেহালার সাহাপুরে।

স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্যভবনে বারবার যোগাযোগ করেও কোনও সাড়া পায়নি বলে অভিযোগ জানায় তার পরিবার। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর ওই বাড়িতে যায় স্থানীয় থানার পুলিশ। অবশেষে পৌরসভা ও পুলিশের সহযোগিতায় সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়।

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়