Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৪ ১৪২৮ ||  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘চারপাশে যেন সাগর’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০০, ১১ মার্চ ২০২১  
‘চারপাশে যেন সাগর’

আশেপাশের সবকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কেনিচি কুরোসাওয়া প্রাণে বাঁচতে দীর্ঘসময় ধরে একটি গাছে ঝুলে আছেন। কিন্তু পানি বাড়তে বাড়তে তার হাঁটু পর্যন্ত চলে এসেছে। আশেপাশের সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় কেনিচির অনুভূতিটা ছিল, তার চারপাশে সমুদ্র, বাঁচার বোধ হয় আর আশা নেই।

২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রায় ছয় মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ছিল এটি। সুনামির আঘাতে তলিয়ে গিয়েছিল উপকূলীয় শহর ইশিনোমাকি। ১০ মিটার উচ্চতার একটি ঢেউ আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগেই পাইন গাছের তিন মিটার উঁচুতে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন কুরোসাওয়া। গাছের ডালের নিজের পা পেঁচিয়ে রেখে ঝুলেছিলেন তিনি।

ওই অনুভূতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে কুরোসাওয়া বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমার চারপাশে যেন সমুদ্র। পানি এতোটা ঠাণ্ডা ছিল যে আমার হাড়েও কাঁপন ধরে গিয়েছিল।’

কুরোসাওয়ার হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠতে শুরু করেছিল। চারপাশে নজর বুলিয়ে তিনি দেখলেন, মানুষজন তাদের গাড়ির স্টিয়ারিং আকড়ে ধরে আছে কিন্তু তীব্র স্রোত সেই গাড়িগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, গাছে ঝুলে থাকা অনেকে তীব্র স্রোতে পানিতে পড়ে ভেসে যাচ্ছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা কুরোসাওয়াকে শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় টিকে থাকতে হয়েছে।

ভূমিকম্প ও সুনামিতে জাপানের ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় কিংবা নিখোঁজ হয়। ফুকুশিমা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এর পারমাণবিক চুল্লি প্লাবিত হলে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। রিয়েক্টরের মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি প্রচণ্ড গরম হয়ে যায় এবং কোরের একটি অংশ গলে যায়। ওই কেন্দ্রে কয়েকটি রাসায়নিক বিস্ফোরণ হলে পুরো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেডিও অ্যাক্টিভ উপকরণগুলো লিক হয়ে বেরিয়ে এসে পরিবেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। দ্রুত পরমাণু কেন্দ্র এলাকার আশেপাশের তিন লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে সরে যায় আরও ৫০ হাজার মানুষ।

এর পরের কয়েকটি বছর ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয় ফুকোশিমা। কর্তৃপক্ষের ধারণা ফুকুশিমাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শেষ করতে আরও কয়েক দশক সময় লাগবে। এর জন্য ব্যয় করতে হবে কয়েক শ কোটি মার্কিন ডলার।
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়