ঢাকা     সোমবার   ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর সঙ্গে কী ঘটতে চলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৯, ৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:২২, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর সঙ্গে কী ঘটতে চলেছে

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন এক সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।  

যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানতে মার্কিন বিচার বিভাগের সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল লিয়ন ফ্রেস্কোর সঙ্গে কথা বলেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।  

আরো পড়ুন:

লিয়ন ফ্রেস্কো জানান, মাদুরোকে সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে, যাকে আইনি ভাষায় ‘অ্যারাইনমেন্ট’ বলা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র এবং মাদক পাচারের’ অভিযোগ আনা হবে।

ফ্রেস্কো বলেন, “আদালতে মাদুরোকে জিজ্ঞাসা করা হবে তিনি দোষী নাকি নির্দোষ। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর তিনি জামিনের আবেদন করবেন, যা নাকচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ তিনি একজন আন্তর্জাতিক নেতা এবং জামিন পেলে তার পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।”

এরপর মাদুরোর সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। তিনি যদি দ্রুত বিচার চান, তাহলে আইন অনুযায়ী ৭০ দিনের মধ্যে বিচার শুরু করতে হবে। যদি তিনি দ্রুত বিচারের অধিকার ত্যাগ করেন, তবে মামলাটি শুরু হতে ১ থেকে ২ বছর সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ে তার আইনজীবীরা আদালতের ‘এখতিয়ার’ নিয়ে বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি এই অ্যাস্টিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মাদুরোর এই পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকে পানামার সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। নোরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি করে ২০১০ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে পানামায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ২০১৭ সালে তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

ফ্রেস্কো জানান, নোরিয়েগার আইনজীবীরাও আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু সেই সময় তাদের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। মাদুরোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি বিতর্ক হবে, তবে আদালত নোরিয়েগার নজির অনুসরণ করবে নাকি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে, তা দেখার বিষয়।

মাদুরোর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রেস্কো জানান, নোরিয়েগাও দাবি করেছিলেন যে তার গ্রেপ্তারি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের তাকে বিচার করার কোনো অধিকার নেই। কিন্তু তার সেই যুক্তি টেকেনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যের সূত্র ধরে ফ্রেস্কো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুক্তি হবে- “যদি আপনি কোনো দেশের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃত না হন, তবে আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষাগুলো ফেডারেল আদালতে কার্যকর হয় না।”

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন, বাইডেন প্রশাসন এবং ইউরোপীয় দেশগুলো মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মার্কিন প্রসিকিউটররা আদালতে এই যুক্তিটিই জোরালোভাবে তুলে ধরবেন, যা নোরিয়েগার ক্ষেত্রে সফল হয়েছিল।

ফ্রেস্কো জানান, যদি মার্কিন আদালত মাদুরোকে ‘বৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের কোনো সুরক্ষা পাবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর মামলাটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একদিকে মাদুরোর আইনজীবীরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করবেন, অন্যদিকে মার্কিন সরকার নোরিয়েগা মামলার নজির টেনে তাকে একজন ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে সাজা দিতে চাইবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়