ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৫, ৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউজের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে  সামরিক শক্তি ব্যবহারসহ ‘নানা বিকল্প’ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’।

আরো পড়ুন:

আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি ট্রাম্পের দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপীয় নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই বক্তব্য এলো।

ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে আবারো হুমকি দিয়ে বলেন যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড ‘প্রয়োজন’। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ন্যাটো মিত্রের উপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আক্রমণ হবে ন্যাটোর জোটের সমাপ্তির শামিল।”

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। আর অবশ্যই, সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার বিকল্পটি সবসময়ই কমান্ডর-ইন-চিফের (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) হাতে থাকে।”

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো বাইরের হামলা থেকে সদস্য দেশগুলোকে রক্ষায় অঙ্গীকারবন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও ন্যাটোর সদস্য। 

মঙ্গলবার ইউরোপের ছয়টি মিত্র দেশ ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। শুধুমাত্র ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডই তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একটি ‘সম্মানজনক আলোচনার’ আহ্বান জানিয়েছেন। নিলসেন বলেন, “আলোচনাটি অবশ্যই এই সম্মানের সঙ্গে হতে হবে যে, গ্রিনল্যান্ডের মর্যাদা আন্তর্জাতিক আইন এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যতের বিষয়টি আবার সামনে আসে। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে এবং মাদক ও অস্ত্র মামলার মুখোমুখি করার জন্য নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসতে মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছিল।

ওই অভিযানের একদিন পর, ট্রাম্পের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন ‘খুব শিগগির।’

গত সোমবার তার স্বামী স্টিফেন মিলার বলেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত- এটিই এখন মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সোমবার ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে না, বরং ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটি কিনে নিতে চায়।

তবে ডেনমার্ক আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক দ্বীপটির বিষয়ে মার্কিন দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য রুবিওর সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের অনুরোধ করেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বললে ‘কিছু ভুল বোঝাবুঝির’ সমাধান হতে পারে।

ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে আর্কটিক অঞ্চলে একটি কৌশলগত মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণাটি সামনে আনেন। ২০১৯ সালে তিনি বলেছিলেন, “মূলত এটি একটি বিশাল রিয়েল এস্টেট ডিল (জমি কেনাবেচা)।”

রাশিয়া এবং চীনের এই দ্বীপটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ সেখানে প্রচুর বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে এবং বরফ গলার ফলে নতুন বাণিজ্যিক নৌপথ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত মার্চ মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে আমেরিকা ‘যতদূর যাওয়া প্রয়োজন ততদূর যাবে’।

গত গ্রীষ্মে একটি সংসদীয় শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করার কোনো পরিকল্পনা পেন্টাগনের আছে কি না। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের কাছে ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা রয়েছে’।

৫৭ হাজার জনসংখ্যার দেশ গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসিত, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্কের হাতে ন্যস্ত।

যদিও বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে, তবে জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ঘোর বিরোধী। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের ইলুলিসাত অঞ্চলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ইনুইট যুবক মরগান আঙ্গাডজু বিবিসিকে বলেন, “মুক্ত বিশ্বের নেতার মুখে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে উপহাস শোনা এবং আমাদের এমনভাবে কথা বলা যেন আমরা কেবল কারো দখলের বস্তু- এটি শোনা অত্যন্ত আতঙ্কজনক।”

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়