উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সিরিজ ড্রোন হামলা, আমিরাতে প্রাণহানি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দুই সপ্তাহ আগে ইরানের মাটিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটল। খবর আল-জাজিরার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ফুজাইরাহ রাজ্য সরকারের মিডিয়া অফিস জানায়, দুবাই থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই জ্বালানি কেন্দ্রে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে গত শনিবারও ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লেগেছিল।
এদিকে মঙ্গলবার আবুধাবিতে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ।
সংযুক্ত আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করছে, যার ফলে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং সাময়িকভাবে দেশটির আকাশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান দাবি করে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির কারণে ওই দেশগুলো তাদের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। তবে এই হামলায় সাধারণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর এবং তেল স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সংযুক্ত আরব আমিরাত এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি হামলার মুখে পড়ছে। ইরান এখন পর্যন্ত আমিরাতের দিকে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে সব মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতও বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিল্প এলাকায় ছোটখাটো আগুন লাগলেও কেউ হতাহত হয়নি। দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেখানে পাবলিক সেফটি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলে মোট আটটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড (কেএনজি) দুটি ড্রোন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ঢাকা/ফিরোজ