ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১ ১৪৩৩ || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যিশুর বেশে নিজের ছবি পোস্ট ট্রাম্পের, নিন্দার মুখে প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:৪১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬  
যিশুর বেশে নিজের ছবি পোস্ট ট্রাম্পের, নিন্দার মুখে প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার ট্রুথ সোশ্যালে রবিবার যিশু খ্রিষ্টের বেশে এই ছবি পোস্ট করেন, যার নিন্দায় সরব হন তার কট্টর সমর্থকরাও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাস্থ্যবিমা থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ আমেরিকানকে বাদ দেওয়ার মতো আইন সই করার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেন; যেখানে তাকে যিশু খ্রিষ্টের মতো এক চরিত্রে দেখানো হয়। 

রবিবার (১২ এপ্রিল) পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, তার হাত থেকে ঐশ্বরিক আলো বের হচ্ছে, তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করছেন, আর পেছনে নরকের এক দানব ভাসছে।

আরো পড়ুন:

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ট্রাম্প পোস্টটি মুছে ফেলেছেন। তবে তার আগে তারই অনেক প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত খ্রিষ্টান সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তাদের অনেকেই আগে তার নানা বিতর্কে পাশে থাকলেও এবার তারা ক্ষোভ দমন করতে পারেননি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফক্স নিউজের উপস্থাপক ও রক্ষণশীল ভাষ্যকার রাইলি গেইনস বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না তিনি কেন এটা পোস্ট করলেন।” তিনি আরো লেখেন, “তিনি কি প্রতিক্রিয়া চান? তিনি কি সত্যিই এমনটা মনে করেন? যাই হোক, দুটি বিষয় সত্য: (১) তার (ট্রাম্প) একটু নম্রতা দরকার, (২) ঈশ্বরকে উপহাস করা ঠিক হবে না।”

ডেইলি ওয়্যারের লেখক মেগান বাশাম এই পোস্টকে ‌‘চরম ধর্মনিন্দা’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি লেখেন, “আমি জানি না, প্রেসিডেন্ট মজা করতে চেয়েছিলেন নাকি তিনি কোনো কিছুর প্রভাবে ছিলেন, বা এর আর কী ব্যাখ্যা হতে পারে।” তিনি দাবি করেন, “ট্রাম্প যেন অবিলম্বে এটি সরিয়ে নেন এবং আমেরিকান জনগণের কাছে, তারপর ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান।”

একই প্রতিষ্ঠানের উপস্থাপক ইসাবেল ব্রাউন ছবিটিকে ‘ঘৃণ্য এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, “যিশুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। এই পোস্টটি সত্যিই ঘৃণ্য এবং অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আমেরিকানদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের প্রতি যে সত্যিকারের ও সুন্দর পুনর্জাগরণ চলছে, সেটিকে ভুলভাবে বোঝার প্রমাণ।”

ডানপন্থি ব্লেজটিভির উপস্থাপক স্টিভ ডিয়েস শুধু একটি শব্দ লেখেন, “না।”

সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি নিজেকে যিশু খ্রিষ্ট হিসেবে দেখানো ছবি পোস্ট করেছেন, তখন তিনি বলেন, “এটা কোনো উপস্থাপন নয়, এটা আমি।” তবে তিনি দাবি করেন, “এটা আমাকে একজন ডাক্তার হিসেবে দেখানোর কথা, যে মানুষকে সুস্থ করে।”

তিনি আরো বলেন, “আর আমি মানুষকে সুস্থ করি। আমি মানুষকে অনেক ভালো করে দিই।”

জর্জিয়ার সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেইলর গ্রিন পোস্টটি মুছে ফেলার আগে স্ক্রিনশট নিয়ে বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং এর বিরুদ্ধে প্রার্থনা করছি!!!”

ট্রাম্প যে এআই-তৈরি ছবিটি শেয়ার করেছিলেন, সেটি আসলে তার তৈরি নয়। প্রথমে এটি ফেব্রুয়ারির শুরুতে এক্স-এ পোস্ট করেছিলেন রক্ষণশীল ভাষ্যকার নিক অ্যাডামস, যিনি আগে থেকেও বাইবেলভিত্তিক এআই-তৈরি ট্রাম্প-সম্পর্কিত কনটেন্ট শেয়ার করতেন। অ্যাডামসের ভার্সনে পেছনে একজন মার্কিন সৈনিকের ছায়া ছিল কিন্তু ট্রাম্পের ভার্সনে সেই সৈনিককে শিংওয়ালা দানব হিসেবে এডিট করে দেওয়া হয়।

শুধু মিডিয়ার প্রভাবশালীরাই নয়, ট্রুথ সোশ্যালের ব্যবহারকারীরাও; যেখানে সাধারণত ট্রাম্পের সমর্থকরা ভিন্নমত দেন না, এই ছবির কারণে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্যাথলিক পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে ট্রাম্পের কথার লড়াই চলছে। কারো নাম না বলেই পোপ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার ভ্রান্ত ধারণা’ কাজ করছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে।

এর জবাবে ট্রাম্প পোপকে ‘অপরাধের ব্যাপারে দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন তিনি ‘পোপ লিওর ভক্ত নন’। তিনি আরো ইঙ্গিত দেন, বিশ্বের ১৪০ কোটিরও বেশি ক্যাথলিকের নেতা চরম বামপন্থিদের তোষণ করছেন।

পোপ লিও, যিনি গাজায় সহিংসতা নিয়েও সরব ছিলেন, সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, “আমি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পাই না, বা সুসমাচারের বার্তা জোরে বলতেও ভয় পাই না; যেটা আমার কাজ, চার্চের কাজ।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিশপরাও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং খ্রিষ্ট্রের প্রতিনিধি, যিনি সুসমাচারের সত্য থেকে কথা বলেন বলে বর্ণনা করেছেন তারা।

পোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা আরো ছড়িয়ে পড়ে যখন ইতালির ডানপন্থি উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনিসহ রাজনৈতিক নেতারা বলা শুরু করেন, পোপকে আক্রমণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ট্রাম্পের ‘অপমানজনক’ মন্তব্যের নিন্দা করেন এবং বলেন, “যিশুকে রাজনৈতিক অহংকারের প্রতীক হিসেবে দেখানো যেকোনো স্বাধীন মানুষের জন্যই অগ্রহণযোগ্য এবং এটি যিশুর অবমাননা।

ট্রাম্পের এআই পোস্টটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো যখন পোপের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। এ ছাড়া ক্যাথলিকদের ইস্টারের এক সপ্তাহ পর এবং অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের ইস্টারের পরদিন প্রকাশিত হওয়ায় পোস্টটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

মার্কের সুসমাচারে বলা হয়েছে, যিশু অসুস্থদের সুস্থ করেছেন, ক্ষুধার্তদের খাইয়েছেন এবং দানব তাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ২০২৫ সালে সই করা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ আগামী ১০ বছরে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার মেডিকেইড খরচ কমাবে। যা নিয়ে শিশু হাসপাতালগুলো সতর্ক বার্তায় বলেছে, এতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এক্স-এর একজন ব্যবহারকারী ম্যান্ডি আর্থার সেই পরিস্থিতি তুলে ধরে লেখেন, “হে ঈশ্বর, হয়তো আমরা ভুল করে অ্যান্টিক্রাইস্টকে নির্বাচিত করেছি। আমাদের বাঁচাও।”

ইরান যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ বলে চালানোর অপচেষ্টাও অবলম্বন করেছেন ট্রাম্প। যাজকদের প্রার্থনার  মধ্যমণি হিসেবে যুদ্ধজয়ের জন্য আশীর্বাদ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধকে কেয়ামতের আগের পরিস্থিতি ডেকে আনার সঙ্গে তুলনা করেছে ট্রাম্পশিবির।

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়