ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, “দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যেও করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি করা হবে না। আগামীতে বেসরকারি খাতের সাথে নিবিড়িভাবে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা‘ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের জিডিপির আকার প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ হলেও দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমায় বাস করছে। বিগত সরকারের আমলে গৃহীত অযৌক্তিক কিছু উচ্চাভিলাসী প্রকল্পের কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ আছে, যা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”
তিনি বলেন, “বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়াতে, বিশেষ করে ব্যবসা পরিচলনা ব্যয় হ্রাস ও সরকারি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার বিকল্প নেই।”
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতার অভাবের কারণে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকারকে বেসরকারি খাতের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সাথে আগামী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও সত্যিকার অর্থে সেটি বাস্তবায়নের সরকারের তেমন কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সেই সাথে ঋণের উচ্চ সুদ হার, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে স্থাণীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে জরুরিভাবে বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে।”
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসনে বলেন, “বর্তমানের বৈশ্বিক সংকটের কারণে স্থিমিত হওয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সচল করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”
বিনিয়োগকে তরান্বিত করতে এমএসএমই খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আহরণ পদ্ধতির অটোমেশন, সহজীকরণ, করজাল সম্প্রসারণ একান্ত অপরিহার্য।”
তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা, সর্বোচ্চ কর হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ ধার্য করাসহ অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করেন।
টেকসই ও স্থিতিশীল আর্থিক খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতির আধুনিকায়ন, খেলাপী ঋণ হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা, উৎপাদনশীল খাতে লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন ও স্থানীর বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতি সুদহার যৌক্তিকীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।
দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতে টেকসই উন্নয়ন, বিশেষ করে পরিবহন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক উন্নত করা, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড প্রবর্তন এবং জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তাসকীন আহমেদ।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, “এনবিআরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানিমূলক আচরণের কারণে বেসরকারি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। করের হার বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ না থাকলেও বিদ্যমান করদাতাদের ওপর হয়রানি ক্রমাগত বাড়ছে।” দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিজওয়ান রাহমান আরো বলেন, “মূল্যস্ফীতি হ্রাসে নতুন করে টাকা ছাপানো বন্ধ করতে হবে। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।”
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, “কর আহরণ পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অটোমেটেড করতে হবে এবং ব্যাংকগুলোকে এক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। আমাদের মোট লেনদনের মাত্র ৩০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে হয়ে থাকে। বেশিরভাগ লেনদেনই আর্থিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থাকায় সরকার প্রকৃত রাজস্ব আহরণে ব্যর্থ হচ্ছে।”
বর্তমানে প্রচলিত ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে জিএসটি পদ্ধতি চালুর আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা/নাজমুল/রফিক
হামসহ শিশুদের টিকা নিয়ে দুদকে অভিযোগ: অধ্যাপক ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টা নূরজাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি