নির্বাচনের পর সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে দুই দিন আগে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে সতর্ক অবস্থানে আছে। তবে, এ সময় যেন নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।”
ডিএমপি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের আশপাশে পুলিশের টহল অব্যাহত আছে। বিজয় বা বিক্ষোভ মিছিল থেকে যাতে বিশৃঙ্খলা বা অন্যের ওপর হামলা না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি করছে পুলিশ। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত আছে। শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিজয়ী প্রার্থীদের বলা হয়েছে। বিজয় উদযাপনে বিজয়ী পক্ষ যেন পরাজিত পক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন বা আক্রমণ না করে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কাজে সব দলের সহায়তা কামনা করছে পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে যাতে গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি করা হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনের পর অনেক সময় সংখ্যালঘু বা দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঝুঁকি থাকে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে পুলিশ। সরকারি অফিস, যানবাহন এবং জাতীয় সম্পদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কেননা, পুরনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে এ সময় হামলা বেশি হয়ে থাকে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সার্থকতা কেবল ভোট গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত রাজধানীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ঢাকা/এমআর/রফিক