ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নির্বাচনের আগে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ছে: এইচআরডব্লিউ

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫২, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬  
নির্বাচনের আগে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ছে: এইচআরডব্লিউ

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে নারী, কিশোরী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদন এই তথ্য তুলে ধরেছে।

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফৌজিয়া মোসলেমের উদ্ধৃতি টেনেছে এইচআরডব্লিউ। 

ফৌজিয়া মোসলেম মনে করেন, নারীদের চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করার লক্ষ্যে কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর বাড়তে থাকা তৎপরতা ও বক্তব্যের কারণেই এই সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা বাড়ানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং যেসব কর্মকাণ্ডকে তারা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মনে করে, সেগুলো বন্ধের দাবি জানায়। এর পর থেকে নারী ও কিশোরীরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যার ফলে তারা সহিংসতার ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

এইচআরডব্লিউ লিখেছে, হিন্দু সংখ্যালঘুরাও হামলার শিকার হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে দীপু চন্দ্র দাস নামে ২৭ বছর বয়সি এক পোশাকশ্রমিককে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৫১টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশে আগে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে বহু নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো খুব সীমিত। নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলে কোনো নারী প্রার্থীই নেই।

এইচআরডব্লিউ লিখেছে, ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, যা বাংলাদেশের অন্যতম বড় দল, তাদের ২৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন নারীও নেই।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া, যেমন সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, জাতিসংঘের উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা অনুসরণ করা এবং সিইডিএডব্লিউ ও আইসিসিপিআর চুক্তির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিবেদনের শেষে লেখা হয়েছে, এসব কোনো নতুন দাবি নয়। গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে বাংলাদেশিরা বারবার এসব কথাই বলেছেন। তাই অন্তর্বর্তী সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের উচিত লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার করা।

এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের মতো কাজ করেছে। গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের আগের কয়েকবছর ধারাবাহিকভাবে গুম-খুন, ভোট ডাকাতিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ঢাকা/রাসেল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়