খালেদা জিয়া দেশের মানুষের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন: সম্পাদক নূরুল কবীর
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, “মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে গেছেন, তিনি কেবল জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি সত্যিকার অর্থেই দেশের মানুষের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। দল-মত নির্বিশেষে তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ, তারই প্রমাণ।”
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছর ধরে যখন রুচিশীলতা, সংযম ও পরিমিতি বোধের ঘাটতি চলছে, সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ব্যতীক্রম। রাজনৈতিক সাফল্য কিংবা প্রতিপক্ষের আঘাত, এমনকি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দুর্ভোগ সত্ত্বেও তিনি কখনো প্রকাশ্যে ক্ষোভ, বিদ্বেষ বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দেননি। এই সংযম, আত্মমর্যাদা ও পরিমিতি বোধ তাকে ইতিহাসে অনন্য করে রাখবে।”
“রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা-ই হোক না কেন, অসহিষ্ণুতার এই সময়ে খালেদা জিয়ার এসব গুণাবলি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” যোগ করেন তিনি।
শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নূরুল কবীর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের একটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ঘটনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যখন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, তখন একটি আবাসিক এলাকার ছোট্ট অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র বের করে বাঙালিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ার উদ্যোগ নেয় এক অবাঙালি সুবেদার মেজর। সে সময় একজন গৃহবধূ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া সামনে এসে দৃঢ়ভাবে তাকে অস্ত্রাগার খুলতে বাধা দেন এবং বলেন, জিয়া না আসা পর্যন্ত এটি খোলা যাবে না। তার এই সাহসী অবস্থানের কারণে সম্ভাব্য রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়।”
“ওই অস্ত্রাগার যদি সেদিন খোলা যেত, তাহলে ভয়াবহ রক্তক্ষয় হতে পারত এবং ২৭ মার্চ স্বাধীনতার আহ্বানে যে দেশব্যাপী ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল, তা ব্যাহত হতে পারত। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার একটি অনন্য, যদিও পরোক্ষ, অবদান রয়েছে,” বলেন নূরুল কবীর।
বক্তব্যের শেষাংশে নূরুল কবীর জানাজার বিশাল জনসমুদ্রে বিএনপি নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে দল পরিচালনার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা যেন রক্ষা করা হয়। এমন কিছু যেন করা না হয়, যাতে মানুষ বলতে বাধ্য হয়; তিনি বেঁচে নেই বলেই এসব দেখতে হচ্ছে না।”
ঢাকা/আলী/রাসেল