আজ শুভ দোলযাত্রা
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
আজ মঙ্গলবার দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দিনটি গভীর আনন্দ, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে উদ্যাপিত হচ্ছে। শ্রীকৃষ্ণের লীলা-স্মরণে পালিত এই উৎসব ‘দোলযাত্রা’ বা ‘দোল উৎসব’ নামে অধিক পরিচিত। ভক্তরা এ দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আত্মিক পরিতৃপ্তি লাভের প্রত্যাশায় প্রার্থনায় মগ্ন হন। ন্যায়ের বিজয়, অন্যায়ের বিনাশ এবং মানবসমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বানই এ উৎসবের মূল বার্তা।
বৈষ্ণব বিশ্বাসীদের মতানুসারে, ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে বৃন্দাবনের নন্দকাননে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা দেবী এবং তার সখী ও অন্যান্য গোপীর সাথে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। এই দিনকে স্মরণ করতেই দোলযাত্রার সূচনা হয়েছিলো। তাই প্রত্যেক বছর ফাগুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে, প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসারে, ১৪তম রাতের পরবর্তী দিনে উদযাপিত হয় দোল।
পণ্ডিতদের মতে, রাধাকৃষ্ণের দোলনায় দোল বা দোলায় গমন করা থেকেই ‘দোল’ কথাটির উৎপত্তি।
বাংলাদেশে সব মত ও পথের হিন্দুরা দোল উৎসব উদ্যাপন করেন। প্রতিবেশী ভারতেও উৎসবটি ব্যাপকভাবে পালিত হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু (প্রাচীন মাদ্রাজ) ও উড়িষ্যা অঞ্চলে এটি দোল উৎসব নামে পরিচিত; আর উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে ‘হোলি’ নামে খ্যাত। বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করায় একে বসন্ত উৎসবও বলা হয়।
দোলযাত্রা উপলক্ষে সারাদেশে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাধাকৃষ্ণের দোল উৎসব, পূজা, হোমযজ্ঞ, কীর্তন এবং প্রসাদ বিতরণ। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৮টায় পূজা, আবির খেলা ও কীর্তন এবং দুপুর ১টায় প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি-এর সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল যৌথ বিবৃতিতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
ভক্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রঙে রাঙিয়ে উঠুক সবার জীবন—এই প্রত্যাশাতেই উদ্যাপিত হচ্ছে দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা।
ঢাকা/লিপি