কমলাপুরে ফিরতি স্রোত, ছুটি শেষে জীবিকার শহরে ফিরছে মানুষ
ঈদের আনন্দের রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবু, ছুটির দিন ফুরাতেই আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার তাড়া। সেই ফেরার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকেই এখানে দেখা গেছে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত। তবে, চিরচেনা বিশৃঙ্খলার বদলে এবারের দৃশ্য ছিল অনেকটাই স্বস্তির।
একের পর এক ট্রেন এসে থামছে। যাত্রীরা নামছেন ধীরে, যেন কেউই তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না। কারো হাতে ভারী ব্যাগ, কারো কাঁধে ঘুমন্ত শিশু, কারো চোখে এখনো গ্রাম ছেড়ে আসার বিষণ্নতা। তবু, সবার পদক্ষেপে স্পষ্ট— ফিরতেই হবে; কারণ অপেক্ষায় আছে কাজ, দায়িত্ব, জীবিকা।
নোয়াখালী থেকে আসা উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী খলিলুর রহমান ট্রেন থেকে নামতে নামতেই বললেন, “ঈদের সময়টা পরিবারের সঙ্গে খুব ভালো কেটেছে। কিন্তু, ছুটি শেষ, তাই ফিরতেই হলো। ট্রেনে আসাটা এবার অনেক স্বস্তির ছিল, আগের মতো ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি হয়নি।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা শাহজালাল বলেন, “গ্রামে গেলে মন পড়ে থাকে ঢাকায়। আবার ঢাকায় এলে গ্রামের কথা মনে পড়ে। কাজের জন্য তো ফিরতেই হয়। ভালো লাগছে, যাত্রাটা সহজ ছিল।”
কক্সবাজার থেকেপ আসা সুমাইয়া আক্তার ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, “বাচ্চা নিয়ে যাত্রা সব সময়ই একটু চিন্তার। কিন্তু, এবার তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি। ট্রেনে ভিড় কম ছিল, নেমেও সমস্যা হয়নি।”
রাজশাহী থেকে ফেরা আব্দুল কালামের কণ্ঠে ছিল বিষণ্নতার সুর। “ঈদের আনন্দ যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত জীবিকার কথা ভাবতেই হয়। এবার অন্তত কষ্টটা কম হয়েছে, সেটাই স্বস্তি”, বলেন তিনি।
কমলাপুর স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও তেমন হুড়োহুড়ি নেই। যাত্রীরা ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ছেন। কেউ ফোনে ঢাকায় ফেরার তথ্য জানাচ্ছেন গ্রামে থাকা পরিবারের সদস্যদের। কেউ আবার চুপচাপ বেরিয়ে যাচ্ছেন পরবর্তী গন্তব্যের পথে। স্টেশনের বাইরে সহজেই মিলছে যানবাহন। ফলে, যাত্রা আরো স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার ঈদের ছুটি তুলনামূলক দীর্ঘ হওয়ায় সবাই একসঙ্গে ফিরছেন না। কেউ আগেই ফিরেছেন, কেউ এখন আসছেন। এতে চাপটা ভাগ হয়ে গেছে। ফলে, ভিড় থাকলেও ভোগান্তি কম হয়েছে।”
ঢাকা/এএএম/রফিক