জিয়া উদ্যানে ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড়
ঈদের ছুটির রেশ যেন এখনো কাটছেই না। সরকার নির্ধারিত ছুটি শেষ হলেও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবারেও (২৭ মার্চ) ঈদ উদযাপনে আগ্রহ কমেনি মানুষের। তাই তো রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র জিয়া উদ্যানে বিনোদনপ্রেমী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লেগেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই ছুটির দিনটি উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন এই উদ্যানে।
নরম রোদ আর মনোরম প্রকৃতি উপভোগ করতে অনেকেই সকালেই চলে আসেন জিয়া উদ্যানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, দুপুরের পর পার্কের প্রায় সব অংশেই ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। শিশুদের খেলাধুলা, তরুণ-তরুণীদের আড্ডা এবং পরিবারের সদস্যদের আনন্দঘন সময় কাটানোর দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
উদ্যানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, “সপ্তাহজুড়ে কাজের চাপ থাকে। তাই, শুক্রবার একটু খোলা জায়গায় এসে সময় কাটাতে ভালো লাগে। এখানে আসলে মনটা ফ্রেশ হয়ে যায়।”
আরেক দর্শনার্থী সুমি আক্তার বলেন, “পরিবার নিয়ে খুব বেশি বাইরে যাওয়া হয় না। ছুটির দিনে জিয়া উদ্যান আমাদের জন্য ভালো একটি অপশন। ভিড় একটু বেশি হলেও সেটা সমস্যা নয়।”
কয়েকজন দর্শনার্থী কিছু অসুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, জিয়া উদ্যানে পর্যাপ্ত বসার জায়গার ব্যবস্থা করা এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।
এক দর্শনার্থী মন্তব্য করেন, “মানুষ যত বাড়ছে, সুযোগ-সুবিধাও তত বাড়ানো দরকার। না হলে সবার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানো কঠিন হয়ে যায়।”
উদ্যানের ভেতরে ছোটখাটো খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার কিনে খেতে দেখা গেছে অনেককে। বিক্রেতারাও এই দিনে বেশ ভালো বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার দিকটিও ছিল উল্লেখযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে উদ্যানে। তারা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ছুটির দিনে জিয়া উদ্যান হয়ে উঠেছে নগরবাসীর স্বস্তির এক আশ্রয়স্থল। ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে এমন খোলা জায়গার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে, বাড়তি ভিড় সামাল দিতে এবং দর্শনার্থীদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা।
ঢাকা/আলী/রফিক