পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাঠে নামানো হলো ট্রাম
কলকাতা শহর থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রিন এনার্জির সস্তা পরিবহন ‘ট্রাম’ এবার ভোট প্রচারে। ডান, বাম কিংবা বিজেপি নয়, কোন দলের প্রচারেও নয়। বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা শহরের ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ প্রদান ও ভোটাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবার ট্রামকে প্রচারের জন্য হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে এটি মুখ রক্ষা নাকি দৃষ্টি ঘোরানো, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মধ্য কলকাতার ধর্মতলা ট্রাম ডিপো থেকে একটি ট্রামকে নির্বাচনি পোস্টার ব্যানারে সুসজ্জিত করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শহরে সচেতনতা সফরের জন্য ট্রামটি উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনেই ট্রামে চড়েন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
ভোটাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত এই ট্রামেই যাত্রী পরিবহন করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল পরিষ্কার ভাষায় বলেন, শহর কলকাতায় ভোট শতাংশের হার অত্যন্ত কম। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হচ্ছে, যার ফলে এবারের ভোট পড়ার হার অনেকটাই বাড়বে। তার দাবি, এতদিন পর্যন্ত সেই অর্থে শহর কলকাতার মানুষকে ভোটদান কক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো রকম সচেতনতা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে মানুষের মধ্যে ভোট দিতে যাওয়ার বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার যে উদ্দেশ্য তা কখনই সাধন হয়নি।
২০০২ সালের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ভোটার তালিকার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, বাদ পড়েছে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার। ফলে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেশ লক্ষণীয়। প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিলের মধ্যে ঠিক কতজন বাদ পড়া মানুষের নাম তালিকায় উঠবে এবং তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই রয়েছে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা। এমন অবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার সচেতনতা-সংক্রান্ত প্রচারের এই সাধু উদ্যোগ বাস্তবে কতটা প্রভাব রাখবে।
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ