ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী ঠেকাতে কোম্পানিগুলো তৎপর

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১০ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১৮:২৮, ১০ জানুয়ারি ২০২৩
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী ঠেকাতে কোম্পানিগুলো তৎপর

তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই নানা ধরনের অপকৌশল অবলম্বন করছে। এবার আইনের সংশোধনী ঠেকাতেও তৎপর হয়ে উঠেছে তারা। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে সম্প্রতি সরকারের আরেকটি দপ্তর থেকে এই খসড়া সংশোধনীর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। যার অনুলিপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রেরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত খসড়ায় তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় এবং ভোগ সংক্রান্ত কতিপয় বিধান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন। এতে অবৈধ উপায়ে পণ্যের যোগান চলমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে এবং চোরাচালানসহ অন্য আরো অবৈধ উপায়ে তামাকজাত পণ্য ভোক্তার নিকট সহজলভ্য হবার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম আরো জোরদার করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে চিঠিতে মত প্রদান করা হয়।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয় বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। চিঠিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা বাস্তবায়িত হলে নকল পণ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ তামাকজাত দ্রব্যের বাজার সয়লাব হয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রস্তাবিত কিছু উপধারা বাস্তবতাবর্জিত এবং অপ্রণয়নযোগ্য দাবি করে প্রস্তাবিত আইনের হাত থেকে রক্ষায় এনবিআর-এর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রতিষ্ঠানটি। 

সিটিএফকে বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এবং এর বাস্তব আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে এবং তা বাস্তবায়ন জরুরি। তাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।

তবে আইন সংশোধনের এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো নানা কুটকৌশল করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো কখনই জনস্বাস্থ্যের কথা ভাবে না। তারা তরুণদের বেছে নেয় এবং নানাভাবে তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এই কোম্পানিগুলো বর্তমান সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগকে ভিন্নপথে নিতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা আশাকরি, সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই সংশোধিত আইন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরো কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। তামাকের এই ভয়াবহতা রোধে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এ লক্ষ্যে তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করার নির্দেশ দেন।

পরবর্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বিলুপ্ত করা; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা; সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়