করোনায় পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
দক্ষিণ কোরিয়ার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, দেশটির নাগরিকদের করোনায় পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট সম্ভবত ত্রুটিযুক্ত টেস্টের ভিত্তিতে ছিল।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল কমিটির প্রধান ওহ মায়ং-ডন বলেছেন, লোকজন দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করা রিপোর্টগুলো খারাপ টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল- এর উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ং-ডনের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার করোনা পজেটিভ নির্ধারণকারী টেস্টগুলো ভাইরাসের শেষ এবং সংক্রামক কণার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম নয়। তিনি প্রাণীদের ওপর পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণা উল্লেখ করেন, যা দেখিয়েছিল- সংক্রমণের পরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক বছরের জন্য স্থায়ী হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ১১৬ জনের বেশি লোকের মধ্যে পুনরায় কোভিড-১৯ পজেটিভ পেয়েছেন। টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে এই সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭। আর এ খবরের পরপরই এমন দাবি করেছেন মায়ং-ডন।
এদিকে চীনের গবেষণাও দাবি করেছে, বেশ কয়েকজন রোগী পুনরায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য পুনরায় করোনায় আক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে সতর্ক রয়েছে।
দ্য হিলকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেটের সেন্টার ফর ইনফেকটিয়াস ডিজিস ডায়মিক্সের জীববিজ্ঞানী নীতা ভারতী বলেছেন, চীনে করোনা ফিরে এসেছে এমন অনেকগুলো রিপোর্ট রয়েছে, যেখানে দেখে মনে হচ্ছে যে লোকেরা পুনরায় সংক্রামিত হয়েছিল, কিন্তু খুব সম্ভবত সেগুলো টেস্টের ত্রুটির ফলে বলে মনে হচ্ছে।
তার মতে, ‘আপনি যদি চীনের মতো অনেক লোকের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে থাকেন, আপনি প্রচুর মিথ্যা ‘পজেটিভ’ এবং প্রচুর মিথ্যা ‘নেগেটিভ’ ফলাফল পেতে পারেন।’
তাহলে সম্ভাব্য কোনো ভ্যাকসিনের অর্থ কী? কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কারকে যা চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে তা হলো, নতুন এই করোনাভাইরাসটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিজেকে পরিবর্তন করতে পারে, যা সংক্রমিত হওয়ার পরে অল্প সময়ের জন্যই মানুষকে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়।
তবে কিছু ভালো খবরও রয়েছে। প্রাথমিক গবেষণাগুলো নির্দেশ করছে করোনাভাইরাসটি কেবলমাত্র ছোট, তুচ্ছ উপায়ে পরিবর্তিত হয়। দ্য হিলকে মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির ইনফেকটিয়াস ডিজিস অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টারের পরিচালক মাইকেল অস্টারহোম বলেছেন, ‘ভাইরাসটি মৌলিক উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে না, যা এখন থেকে এক বছর ধরে এটিকে প্রতিরোধমূলকভাবে আলাদা করা উচিত। আমরা আশা করি এটি হামের টিকার অনুরূপ হতে চলেছে।’
ঢাকা/ফিরোজ/নাসিম
রাইজিংবিডি.কম